২০২৬ সালের প্রথম ১৫ দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিখোঁজ হয়েছেন ৮০০ জনের বেশি মানুষ। এর মধ্যে নারী ও কিশোরী রয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি, যা মোট নিখোঁজের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মোট ৮০৭ জন নিখোঁজের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৯ জন নারী ও কন্যাশিশু।
এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৪ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ৫০৯ নারী ও কন্যাশিশু এবং ২৯৮ পুরুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনকে খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে এখনো ৫৭২ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। মোট ১৯১ জন নিখোঁজ অপ্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১৪৬ জন কন্যাশিশু এবং ৪৫ জন ছেলে।
আরও পড়ুন>>ভারতে এক বছরে ২০ হাজার কন্যাশিশুকে ধর্ষণভারতে স্কুলে যাওয়ার পথে দলিত কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণভারতে বাসের ভেতরে ধর্ষণ, ১০০ মিটারের মধ্যেই ছিল পুলিশ স্টেশন
বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কিশোর-কিশোরীরাই এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি। ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৬৯ জন কিশোর-কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে, যার মধ্যে ১৩৮ জনই মেয়ে। এই কিশোর-কিশোরীদের প্রায় ৭১ শতাংশের খোঁজ এখনো মেলেনি।
৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৩ জন, যাদের মধ্যে আটজন ছেলে ও পাঁচজন মেয়ে। আট বছরের নিচে আরও নয় শিশুর নিখোঁজের খবর রয়েছে। এই কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ওই ১৫ দিনে নিখোঁজ হয়েছেন ৬১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক—এর মধ্যে ৩৬৩ জন নারী ও ২৫৩ জন পুরুষ। এদের মধ্যে ১৮১ জনের খোঁজ মিললেও ৪৩৫টি মামলা এখনো তদন্তাধীন।
আরও পড়ুন>>ভারত/ কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকার ওপর ছাত্রের হামলাভারতে চলন্ত গাড়িতে নারীকে ২ ঘণ্টা দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়‘আমার কিছুই হবে না’, ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামীর দম্ভ
পুলিশের তথ্য বলছে, এটি নতুন কোনো প্রবণতা নয়। ২০২৫ সালেও দিল্লিতে ২৪ হাজার ৫০০টির বেশি নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৬০ শতাংশের বেশি। গত এক দশকে ভারতীয় রাজধানীতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে এখনো প্রায় ৫২ হাজার মামলার কোনো সমাধান হয়নি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিখোঁজের ঘটনায় অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইকোনমিক টাইমসকেএএ/