‘গণভোট ২০২৬ এবং সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে কোথাও লিখছে- ‘পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে।’ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ধারণা থাকলেও অনেকের কাছে গণভোটের ধারণা এখনো স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিনদিন। শেষ মুহূর্তে আরেকবার জেনে নেওয়া যাক গণভোট কী, কেন, কীভাবে দেবেন- সে সম্পর্কে।
গণতন্ত্রে জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন এটি প্রয়োজন তার কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো:
সংবিধান সংশোধন: দেশের মূল আইন বা সংবিধানে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে জনগণের অনুমতি নিতে। জাতীয় নীতিনির্ধারণ: কোনো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: বিতর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এড়াতে সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া। গণতান্ত্রিক অধিকার: জনগণের মতামত সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে। গণভোট কীভাবে হয়?অনেকেই জানতে চান গণভোট কীভাবে দিতে হয় বা এর প্রক্রিয়াটি কী। নিচে এর একটি সাধারণ রূপরেখা দেওয়া হলো:
ইস্যু নির্ধারণ: প্রথমে সরকার বা সংসদ ঠিক করে কোন বিষয়ে গণভোট হবে। আইন প্রণয়ন: গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট বিধিমালা বা বিল পাস করা হয়। প্রশ্ন নির্ধারণ: ব্যালট পেপারে প্রশ্নটি এমনভাবে করা হয় যেন উত্তর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ তে দেওয়া যায়। নির্বাচন কমিশন: সাধারণ নির্বাচনের মতোই নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্র ঠিক করে এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে। ভোটগ্রহণ: ভোটাররা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ফলাফল ঘোষণা: অধিকাংশ ভোট যে পক্ষে পড়ে (হ্যাঁ বা না), সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়। এবার যেভাবে গণভোট দেবেনজাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ ২০২৫ অনুমোদনের জন্য জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট দেবেন নিম্নের প্রক্রিয়ায়-
ব্যালট পেপারে নিম্নে উল্লেখিত বিবরণের পর ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ঘর থাকবে। সেখানে হ্যাঁ ঘরের পাশে টিক চিহ্ন এবং না এর ঘরের পাশে ক্রস চিহ্ন থাকবে। যে কোনো একটিতে সিল দিতে হবে-
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে নিম্নলিখিত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’ (হ্যাঁ/না)
ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে। খ. আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে। গ. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধীদল হইতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে- সেগুলো বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদ নিশ্চিত করিতে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে। ঘ. জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।এসইউজে/এএসএ