জাতীয়

১৫ মাসে কোনো দলের পক্ষে কাজ করিনি: ডিএমপি কমিশনার

‘গত ১৫ মাসে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করিনি’ উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, এটাই প্রমাণ আমরা কোনো দলের না। নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে পুলিশ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপি থেকে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেই কালিমামুক্ত হতে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিক দল ব্যবহার করেছে। এবার কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যে পুলিশকে রাজনৈতিক দল ব্যবহার করতে পারবে না; জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ১৫ মাস আমি ডিএমপির কমিশনার। আপনারা কি দেখেছেন, আমরা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছি? যদি দেখেন আমরা কোনো দলের পক্ষে কাজ করিনি, তাহলে এটাই প্রমাণ করে আমরা কোনো দলের না।

সেনাবাহিনীর তথ্য মতে ঢাকায় দুটি আসন ঝুঁকিপূর্ণ, ডিএমপির মতে কয়টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা সেভাবে এনালাইসিস করিনি। আমরা এনালাইসিস করেছি, ঢাকা মেট্রোপলিটনে দুই ধরনের কেন্দ্র থাকবে। একটি হলো গুরুত্বপূর্ণ, আরেকটি সাধারণ। ১ হাজার ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। এছাড়া আমরা ৩৭টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছি, যেখানে সাতজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচন ঘিরে সোয়াত প্রস্তুত রাখাসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি। নির্বাচন ঘিরে কি ধরনের নিরাপত্তার থ্রেট রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নেই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো পরিবেশ চলছে। অপরাধ নেই, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নেই, রাস্তাঘাট অবরোধ নেই। খুবই ভালো পরিবেশ। ৩ কোটি লোকের শহরে আমরা পুলিশিং করি। যেখানে বেকারত্ব আছে, ভাসমান লোক আছে, নানা ধরনের সমস্যা আছে। এমন একটি শহরের আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ পরিস্থিতি চমৎকার।

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। একটি নির্বাচন যখন হয়, তখন একটি দল জয়লাভ করে, একটি দল পরাজয় লাভ করে। তখন পরাজিতরা কারচুপির কথা বলে। আমাদের দেশের কালচারই এমন। এখনো বাজারে নানা গুজব রয়েছে।

নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় ডিএমপির কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, আমাদের সার্বিক যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সেখানে সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমার কলিগ সবাই আছেন। তিন কোটি ঢাকাবাসী এই পরিকল্পনার মধ্যে আছে। কারো নিরাপত্তাহানি ঘটবে আমরা মনে করি না। শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমি শতভাগ নিশ্চিত করছি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএমপি কমিশনারের লাঠি হাতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছুটির দিনে বাসায় ইনফরমাল ড্রেসে চুল কাটাচ্ছিলাম। যখন শুনতে পেলাম আন্দোলনকারীরা যমুনায় ঢুকে পড়ছে, আমি অন্য কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই চলে এসেছি। গিয়ে দেখি পরিস্থিতি ভয়ানক। নির্বাচনের ৫-৬ দিন আগে সরকার প্রধানের বাসার সামনে আন্দোলনকারীরা এসে যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে তাহলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে কি বসে থাকার সুযোগ আছে? ডেইলি স্টার-প্রথম আলোতে যে আক্রমণ হলো গভীর রাতে, ট্রাফিক জ্যামের কারণে আমার অফিসারদের আমি সময়মতো সেখানে পাঠাতে পারিনি। এই ধরনের ঘটনা ঘটলো। তখন সব দায় পুলিশের ওপর এল।

সরকার প্রধানের বাসভবনে যখন আন্দোলনকারীরা ঢোকার চেষ্টা করছিল, তখন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমার বসে থাকার সুযোগ আছে কি না?

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, নাগরিকদের কাছে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

টিটি/এমআইএইচএস