টেডি ভালোবাসা কি শিশুসুলভ? আজ টেডি দিবসে অনেকেই হয়তো ভাবছেন – বয়স হয়েছে, এখন আবার কিসের টেডি ডে! কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে বড়দের টেডি ভালোবাসা মানসিক সচেতনতার একটি ইঙ্গিত।
শৈশবে আমরা যে জিনিসগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা খুঁজে পাই, মস্তিষ্ক সেগুলোকে দীর্ঘদিন মনে রাখে। বড় হওয়ার পরও যখন চাপ, একাকীত্ব বা অনিশ্চয়তা আসে, তখন মস্তিষ্ক সেই পুরোনো নিরাপত্তার স্মৃতির দিকে ফিরে যেতে চায়। টেডি সেই স্মৃতিকেই সক্রিয় করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টাচ ডেফিসিট। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে আমরা শারীরিক স্পর্শ কম পাই। অথচ মানব মস্তিষ্ক স্পর্শকে নিরাপত্তার সংকেত হিসেবে নেয়। টেডির নরম টেক্সচার সেই অভাব আংশিক পূরণ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ঘুমের সময় টেডি বা বালিশ জড়িয়ে ধরলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে এবং ঘুমের মান ভালো হয়। এটি নিজেকে নিজেই শান্ত করার একধরনের মেকানিজম।
মনোবিজ্ঞানে টেডিকে বলা হয় ট্রানজিশনাল অবজেক্ট বা কমফোর্ট অবজেক্ট। নরম কোনো বস্তু জড়িয়ে ধরলে শরীরে অক্সিটোসিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা নিরাপত্তা ও সংযোগের অনুভূতি তৈরি করে। এই হরমোনই মা ও শিশুর বন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, বড়রা যখন নিজের আরামের জন্য টেডি ব্যবহার করে, তখন এটি শিশুসুলভ আচরণ নয়; বরং তারা নিজের আবেগকে গুরুত্ব দিতে জানে। এটি মানসিক সুস্থতার একটি পরিণত রূপ।
কারণ, ছোট বেলার এই খেলনা টেডি বড়দের কাছে এটি মানসিক নিরাপত্তা, স্মৃতি ও স্বস্তির প্রতীক।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, ওয়েবএমডি, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং
এএমপি/এমএন