প্রবাস

জাতীয় নির্বাচন: এক নতুন রাজনৈতিক মানচিত্রের অগ্নিপরীক্ষা

বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি নিছক একটি নির্বাচন নয়। এটি একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মুহূর্ত কিনা, সেই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।

এই নির্বাচনটি ঐতিহাসিক কয়েকটি কারণে। প্রথমত, এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ছাত্র নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে গেছে।

তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, তিন দশকের মধ্যে এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে, কারণ দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আওয়ামী লীগ কেন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার সময় দলটির বিরুদ্ধে প্রশাসন দলীয়করণ, নির্বাচন ব্যবস্থাকে একতরফা করা, বিরোধী রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জমতে জমতে এক পর্যায়ে একটি রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ দেশত্যাগ করে, সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং আইনি ও নৈতিক সংকটের ভেতর দিয়ে দলটির কার্যক্রম স্থগিত হয়। এর ফলে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দিয়েই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা স্বাভাবিকভাবেই গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এখানেই মূল প্রশ্নটি দাঁড়ায়। এটি কি সত্যিকারের পোস্ট অথরিটারিয়ান ট্রানজিশন, নাকি ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের আরেকটি পর্ব।

ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রতিযোগিতার প্রশ্নে চিত্রটি জটিল। বিএনপি নেতা তারেক রহমান প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন যে তার দল দুই তৃতীয়াংশ আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিন নির্বাসিত থাকা, রাজনৈতিক মামলার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হওয়া এবং আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তিনি পেয়েছেন একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ফলেই।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামি এবং তাদের সহযোগী জোট নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। জামায়াতের শক্তি কেবল দলীয় কাঠামোতে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের দীর্ঘদিনের ছাত্র সংগঠন, সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং মাঠপর্যায়ের সংগঠিত কর্মী কাঠামো এই নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছাত্র রাজনীতির ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব এখন মূল রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করছে, যা বাংলাদেশের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ বিন্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত আওয়ামী লীগ ভোটারদের মধ্যে গভীর বিভাজন স্পষ্ট। কেউ বিএনপির দিকে ঝুঁকছে, কেউ আবার পুরো প্রক্রিয়াকেই প্রত্যাখ্যান করে ভোট বর্জনের কথা ভাবছে। এটি কেবল দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আস্থার ভাঙনের প্রকাশ।

এই প্রেক্ষাপটে একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে। একটি বড় রাজনৈতিক দল অনুপস্থিত বা নিষ্ক্রিয় থাকলে একটি নির্বাচন কতটা প্রতিযোগিতামূলক বহুত্ববাদ ধারণ করতে পারে।

এখানেই এনসিপির বিষয়টি অনিবার্যভাবে আসে। যে রাজনৈতিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে এনসিপির মতো একটি শক্তির উত্থান ঘটেছে, সেটিই তো বহুদিন নির্বাসিত থাকা রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে, জনগণের বাকস্বাধীনতার পরিসর পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে। অথচ এই নতুন শক্তির ভূমিকা উপেক্ষা করলে বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপট অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের মতো এলাকায় নির্বাচন এখন আর কেবল দল বনাম দলের প্রতিযোগিতা নয়, বরং পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বনাম নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি সংঘর্ষ। এই আসনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর নেতৃত্ব কেবল একটি নতুন স্বাভাবিক নয়, বরং এক ধরনের নীরব আত্মসমর্পণের প্রতীক, যেখানে ধীরে ধীরে জনগণকে শেখানো হচ্ছে কীভাবে সীমিত বিকল্পের মধ্যেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এটি গণতন্ত্রের বিকাশ নয়, বরং তার সংক্ষিপ্তকরণ।

গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে মৌলিক বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। সুপ্রিম কোর্ট অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করলেও সেটি কার্যকর হবে পরবর্তী সংসদের পর। অর্থাৎ আসন্ন নির্বাচনটি হচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই। ফলে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই। কেন এখন নয়।

এই প্রশ্নের ভেতরেই লুকিয়ে আছে একটি গভীর সংকট। বাংলাদেশ কি এখনও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার ঘাটতিতে ভুগছে। রাষ্ট্র, নির্বাচন কমিশন এবং পুরো ব্যবস্থার ওপর মানুষের বিশ্বাস কতটা পুনর্গঠিত হয়েছে, সেটাই এই নির্বাচনের প্রকৃত পরীক্ষা।অনিয়ম, যোগ্যতা ও আইনি প্রশ্ন এই আস্থার সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিভিন্ন নাগরিক জোটের অভিযোগ অনুযায়ী কিছু প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব ও বিদেশে সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তার বাস্তব পরিণতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

এখানে বড় থিমটি স্পষ্ট। নৈতিক বৈধতা বনাম আইনি বৈধতা। কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেই কি জনগণের আস্থা ফিরে আসে।

গ্রহণযোগ্যতার সংকট আরও গভীর। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে কেন্দ্র দখল, অনিয়ম ও গোলযোগের আশঙ্কা বারবার উঠে এসেছে। অর্থাৎ নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই একটি বিশ্বাসযোগ্যতার লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

ভোটার মনস্তত্ত্বেও এই দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। কেউ নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে আশার চোখে দেখছে, আবার কেউ বিভ্রান্ত, ক্লান্ত বা বিমুখ। দীর্ঘদিনের ভয়ের রাজনীতি পেরিয়ে মানুষ একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রত্যাশা করছে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

এই নির্বাচন কি পুনর্জন্ম, নাকি শুধু পুনর্বিন্যাস। এই প্রশ্নই এখন কেন্দ্রে। এর ওপর রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক ছায়া। আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতারা ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। ফলে অতীতের কর্তৃত্ববাদ এবং ভবিষ্যতের ন্যায়বিচারের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখনো অমীমাংসিত।

আমার ব্যক্তিগত মতামতের দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। যেমন-রাষ্ট্র বনাম নাগরিক আস্থা, নিষিদ্ধ দল থাকলে গণতন্ত্র কতটা পূর্ণ, যুব আন্দোলনের পর রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তন, নির্বাচন সংস্কৃতি বনাম নির্বাচন যন্ত্র, এবং সর্বোপরি, বিতর্ক সংস্কৃতির অনুপস্থিতি।

বাংলাদেশে মুখোমুখি নীতিগত বিতর্ক প্রায় নেই। রাজনীতি ব্যক্তিনির্ভর, সমাজ তীব্রভাবে বিভক্ত, আইনি ঝুঁকি এবং প্রতিশোধের আশঙ্কা রাজনীতিকদের প্রকাশ্য বিতর্ক থেকে দূরে রাখে। অথচ যেখানে নেতারা বিতর্কে দাঁড়াতে ভয় পান, সেখানে ভোট কি সত্যিই সচেতন পছন্দ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই নির্বাচন এখন আর কেবল সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়। এটি রাষ্ট্রের বৈধতা পুনর্নির্মাণের একটি পরীক্ষা। পুরনো শাসনের পতন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, আইনি বিতর্ক, নৈতিক প্রশ্ন এবং ভোটার সংশয় মিলিয়ে এটি একটি ভিত্তিমূলক নির্বাচন হয়ে উঠতে পারে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তথাকথিত জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তব রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতর অন্তত আংশিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। সংসদ সদস্যদের শপথকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা না রেখে নৈতিক জবাবদিহি, সম্পদ স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক আচরণের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে যুক্ত করা হলে এটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে। একইভাবে বৈশ্বিক চুক্তিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ন্যূনতম ঐকমত্য অপরিহার্য।

শেষ পর্যন্ত জুলাই সনদের প্রকৃত সাফল্য ঘোষণায় নয়, বরং এমন কিছু অপরিবর্তনীয় নীতিগত দাগ রেখে যাওয়ায়, যা বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক পথরেখাকে বাধ্যতামূলকভাবে আরও জবাবদিহিমূলক ও পূর্বানুমানযোগ্য করে তোলে।সারমর্ম এই লেখার ভেতর দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। এটি একটি নির্বাচন, কিন্তু এখনো একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা নয়।

রাষ্ট্র চেষ্টা করছে নির্বাচনকে একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া হিসেবে দাঁড় করাতে। কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রই এখনো সেই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এই নির্বাচন আসলে তিনটি স্তরে পরীক্ষা দিচ্ছে।

প্রথমত; রাজনৈতিক বৈধতাদ্বিতীয়ত; প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাতৃতীয়ত; আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাএই তিনটির কোনোটিই এখনও নিশ্চিত নয়।

নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবেআংশিকভাবে, কিন্তু নিঃশর্তভাবে নয়। এটি আগের মতো রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতির নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু এটি পুরোপুরি মুক্ত ও সমান মাঠের নির্বাচনও নয়।

কারণএকটি বড় রাজনৈতিক শক্তি অনুপস্থিতনতুন শক্তিগুলো এখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্বলপ্রশাসন পুরনো মানসিকতা থেকে পুরোপুরি বের হয়নি

সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু ব্যালট ঠিক থাকার প্রশ্ন নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন মানে সমান প্রচার সুযোগ, ভয়মুক্ত পরিবেশ, নীতিগত বিতর্ক এবং ভোটারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাস্তব সুযোগ। এই চারটির মধ্যে অন্তত দুইটি এখনও দুর্বল।

প্রশাসন কি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে পারবেএটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। প্রশাসন এখন একটি অস্বস্তিকর অবস্থানে। তাদের বলা হচ্ছে নিরপেক্ষ থাকতে। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের ওপর চাপ রয়েছে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার, সংঘাত এড়ানোর এবং ক্ষমতার শূন্যতা না তৈরি করার।

এই চাপ থেকেই পক্ষপাতিত্ব জন্ম নেয়। সরাসরি না হোক, নীরবতার মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে অতিসতর্কতা, কিছু ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলক উদাসীনতা। যেমন কোথাও চোখ বন্ধ, কোথাও অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ। এগুলোই ভবিষ্যতের অভিযোগের ভিত্তি হবে।

বহির্বিশ্বের প্রভাবপ্রভাব আছে, কিন্তু এখন আগের মতো প্রকাশ্য নয়, বরং সূক্ষ্ম।

তিনভাবে প্রভাব কাজ করছেএক, অর্থনৈতিক চাপ – ঋণ, বাণিজ্য, বাজার, রপ্তানিদুই, নৈতিক ভাষ্য – মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতাতিন, নীরব সমঝোতা – কে জিতবে নয়, কে হারবে না

বহির্বিশ্ব এখন আর আদর্শ চায় না। তারা চায় একটি পরিচালনাযোগ্য বাংলাদেশ, একটি পূর্বানুমানযোগ্য সরকার, একটি অস্থিরতা মুক্ত অঞ্চল। এই বাস্তবতা নির্বাচনের চরিত্রকে প্রভাবিত করছে।

আমার মূল্যায়নএটি কোনো বিপ্লবী নির্বাচন নয়। এটি একটি ট্রানজিশনাল নির্বাচন। পুরনো কর্তৃত্ববাদ ভেঙেছে, কিন্তু নতুন গণতন্ত্র এখনো দাঁড়ায়নি।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অর্জন হবে যদি এটি আরেকটি ভয়ের চক্র তৈরি না করে। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হবে যদি মানুষকে ধীরে ধীরে শেখানো হয় এই সীমাবদ্ধ বাস্তবতাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে। তখন সেটি হবে নতুন স্বাভাবিক নয়, বরং নীরব আত্মসমর্পণ।

লেখক: রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেনrahman.mridha@gmail.com

এমআরএম/এএসএম