অর্থনীতি

দোকানপাট বন্ধ রাখতে নেই সরকারি কোনো নির্দেশনা

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দোকানপাট বন্ধ রাখতে সরকারি কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে বাণিজ্যবিতান ও শপিংমলগুলো বন্ধ থাকবে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ বিপণীবিতানে ছুটির আমেজ শুরু হয়ে গেছে। কর্মীরা ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পথে। খাবার দোকান, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান ও ফার্মেসি খোলা থাকবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেশের দোকানপাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।’

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দুদিন ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি নামের একটি সংগঠন। প্রায় একই নামে থাকা পূর্বের সংগঠন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন নতুন সংগঠনটিকে ভুয়া ও তাদের তথ্যকে মিথ্যা দাবি করলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ওষুধের দোকান খোলা থাকবে কি না সেই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি নামের ওই সংগঠনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও।

মঙ্গলবার জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোদি দোকান, কাঁচাবাজার, খাবারের দোকান ও ফার্মেসি খোলা থাকবে। এ বিষয়টি আমাদের আরও আগেই স্পষ্ট করা উচিত ছিল। আগামীতে আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করেই বিজ্ঞপ্তি দেব।’

বিপণী বিতানগুলোর মধ্যে কোনগুলো বন্ধ হচ্ছে তা স্পষ্ট করতে পারেননি নতুন সংগঠনটির এই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা ও যমুনা কারা চালায় আপনার নিশ্চয় জানেন। সেগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার তো আমাদের নেই। আপনার কালকেই দেখবেন কোনগুলো বন্ধ থাকে। বাংলামোটরের দোকানপাট অলরেডি (ইতিমধ্যে) বন্ধ হওয়া শুরু হয়েছে।’

দুই সংগঠনের বিভ্রান্তির কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে কেউ যদি নির্দেশনা দেয় সারাদেশে দোকানপাট বন্ধ থাকবে, এটি তো হতে পারে না। ভোট একটি উৎসব। সব কিছু বন্ধ করে তো উৎসব হতে পারে না। কোথাও যদি কোনো কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে, প্রতিটি মার্কেটের সমিতি রয়েছে তারা আলাদা করে নির্দেশনা দিতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে দেওয়া নির্দেশনা সেভাবে কার্যকর নয়।’ নতুন সংগঠনটির নিবন্ধন রয়েছে কি না এমন প্রশ্নও ছুড়ে দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দুই সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হেলাল উদ্দিন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থিত। তিনি আগে থেকেই বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি নামের সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। আর বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি নামের সংগঠনটি নতুন। তারা হেলাল উদ্দিনকে স্বৈরাচারের দোসর বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গেল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. আরিফুর রহমান টিপুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইএইচটি/এমএমকে