দেশের স্বার্থ রক্ষা না হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা চুক্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, দুনিয়ার সব জায়গায় বিভিন্ন বন্দরের আঙ্গিক পরিচালনায় মডার্নাইজেশন (আধুনিকায়ন) এসেছে এবং বাইরের এক্সপার্ট কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে। যেমন পার্শ্ববর্তী দেশে পাঁচটা না সাতটা, পাকিস্তানের মূল বন্দর হচ্ছে করাচি, সেটাও এখন তারা চুক্তি করছে। সেই জায়গাতে এই বিষয়টি (ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে লিজ চুক্তি) নিয়ে এত হইচই কেন করা হচ্ছে আই ডোন্ট নো (আমি জানি না)।
উপদেষ্টা বলেন, তাছাড়া আমরা জানি ইলেকশন তো সামনে। তারপরেও প্রায় গত তিন মাস এই নেগোসিয়েশন (আলোচনা) চলেছে। তিন মাস নেগোসিয়েশনে আমরা যেই জায়গায় আসছি, সেই জায়গায় আমাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। বারবার বলেছি যে আমাদের স্বার্থ রক্ষা না হলে আমরা এই চুক্তি করতে পারছি না। এই জায়গাতে হার্ডলাইন আলোচনা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা চলছে। সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই যে যেখানে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না, সেখানে চুক্তি করতে যাবে।
আন্দোলনকারীরা তো বলছেন যে, এটা একটা লাভজনক বন্দর, তাহলে সরকার সেটা বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে কেন- জানতে চাইলে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বন্দর চালালে তো লাভজনক হবেই। আমি একটা বন্দর বানাবো দেশে, আমি কি লাভজনক করবো না? তো আমার লাভ যা আছে তার থেকে যদি চারগুণ করতে পারি, তাতে অসুবিধা কী?
উপদেষ্টা বলেন, বন্দর বিদেশি হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা এমন স্লোগান দেন, তাহলে আমি বলবো, তারা জেনেশুনে বিভ্রান্ত করছেন, অথবা তাদের কোনো আইডিয়া নেই। একটা বন্দর দুই রকমে চলতে পারে। একটা হচ্ছে, আপনি নিজে বানালেন বেসরকারিভাবে। বেসরকারিভাবে আপনি বিদেশিরে বানিয়ে দিলেন তারাই চালাচ্ছে। চিটাগং পোর্ট ইজ ন্যাশনাল পোর্ট। এখানে আপনারা জানেন যে বড় বড় তিনটি টার্মিনাল আছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, একটা তো নতুন তৈরি করছে, সেটা দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবকে। বড় বড় তিনটি টার্মিনাল আছে। এই টার্মিনাল তিনটাই হচ্ছে চিটাগং পোর্টের মূলপথ। এখন একটা টার্মিনাল যদি আপনি মনে করেন যে, এই টার্মিনালটা আমাকে পয়সা দিচ্ছে, আমি আরও ভালো করতে চাই। সেই সঙ্গে সব পোর্টের মানে পুরো পোর্টেরই ব্যবস্থাপনা বাড়াতে চাই। সেজন্য যদি আরও স্কিলড কাউকে নিয়ে আসতে পারি।
সংবাদ সম্মেলনে তার দেড় বছর মেয়াদে হওয়া উন্নয়ন ও অর্জন তুলে ধরেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
বর্তমান সরকার কত শতাংশ সফল জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমার অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী আমি ৭০ শতাংশ বলবো। ৩০ শতাংশ হয়তো আরো ভালো হতে পারতো, হয়নি। নানাবিধ কারণে হয়নি। এত প্রোটেস্ট, এত কিছু। পুলিশের তরফ থেকে তো কোন মারণাস্ত্র ব্যবহার হয়নি। লাঠিও মারেনি। এজন্য আমাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মাঝে মাঝে আক্ষেপ করে বলেন, আমি করবো টা কি? লাঠি মারলেও লোকে বলে, পুলিশ লাঠি মেরেছে।
আরএমএম/এএমএ