চুল পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখতে শ্যাম্পুর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেই বছরের পর বছর একই শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, আবার কেউ কয়েক মাস পরপর পরিবর্তন করেন। তবে চুল ও স্ক্যাল্পের সুস্থতার জন্য কোনটি বেশি উপকারী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুলের ধরন, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শ্যাম্পু কখন পরিবর্তন করা প্রয়োজন?
শ্যাম্পু পরিবর্তন শুধু পছন্দের বিষয় নয়, অনেক সময় এটি স্ক্যাল্পের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। আবহাওয়ার পরিবর্তন, দূষণ, অতিরিক্ত শুষ্কতা বা আর্দ্রতা মাথার ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে আগে ব্যবহার করা শ্যাম্পু আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারে।
এছাড়া শরীরের হরমোনজনিত পরিবর্তন যেমন বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ স্ক্যাল্পে তেলের মাত্রা বাড়াতে বা কমাতে পারে। ফলে চুলের ধরন বদলে গেলে শ্যাম্পুও পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
একই শ্যাম্পু দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কী সমস্যা হতে পারে?
একই শ্যাম্পু দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে অনেক সময় স্ক্যাল্পে বিভিন্ন প্রসাধনী উপাদান জমে স্তর তৈরি হতে পারে। এতে শ্যাম্পুর কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যায়। পাশাপাশি কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন –
>> খুশকি বেড়ে যাওয়া
>> মাথার ত্বকে চুলকানি হওয়া
>> চুল নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে পড়া
>> চুল ধোয়ার পরও দ্রুত তেলতেলে হয়ে যাওয়া
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে বর্তমান শ্যাম্পু চুলের প্রয়োজন পূরণ করতে পারছে না।
ঋতুভেদে শ্যাম্পু পরিবর্তন কতটা জরুরি?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বছরের বিভিন্ন সময় অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন করা ভালো অভ্যাস। শীতকালে চুল তুলনামূলক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। তাই এ সময় আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। অন্যদিকে গরম বা আর্দ্র মৌসুমে স্ক্যাল্পে তেল জমার প্রবণতা বাড়ে। তখন হালকা বা তেল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক শ্যাম্পু ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।
ঋতু অনুযায়ী শ্যাম্পু পরিবর্তন করলে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে এবং চুল সুস্থ থাকে।
সব ধরনের চুলের জন্য এক ধরনের শ্যাম্পু সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে। তাই চুলের পরিবর্তন, আবহাওয়া ও স্ক্যাল্পের অবস্থা বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন করা সবচেয়ে ভালো। তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘন ঘন শ্যাম্পু পরিবর্তন করাও ঠিক নয়। নিজের চুলের প্রয়োজন বুঝে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
তথ্যসূত্র: ল্যাবরেটরিজ ড্রুইড
সানজানা রহমান যুথী/এএমপি