দেশজুড়ে

হাতিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় সাংবাদিকসহ আহত অর্ধ শতাধিক

নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে নির্বাচনী সহিংসতায় সাংবাদিকসহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এরমধ্যে বেশিরভাগই ১১ দলীয় জোট প্রার্থী এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের সমর্থক বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে এসব হামলা-সংঘর্ষ ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।

সকাল ১০টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে হান্নান মাসুদের গাড়ী বহরে হামলা করে বিএনপি কর্মীরা। এসময় বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মিরাজ উদ্দিনসহ অন্তত ১০জন আহত হন। সাংবাদিক মিরাজের মাথায় ও পিঠে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা।

বেলা ১১টার দিকে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদিয়া কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় আবদুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি নেতা লিটন চৌধুরী ও স্বপন মেম্বারের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং হাতের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এমনকি ভিডিও করার সময় আরেক এনসিপি নেতার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।

দুপুরে হাতিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওছখালী বাজারে হান্নান মাসউদের সমর্থক আবদুর কাদের ও তার ছেলে মো. ফয়সালের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আবদুল কাদের অভিযোগ করে বলেন হামলাকারীরা সবাই বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের শামীমের সমর্থক। এছাড়াও হামলার ঘটনা ঘটেছে বুড়িরচর, জাহাজমারা ও সোনাদিয়া ইউনিয়নে।

উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মানছুর উদ্দিন জানান, সকাল থেকে হাসপাতালে ৩০ জনের মতো লোক এসেছে। তাদের মধ্যে চারজন ভর্তি আছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কর্মী সমর্থকদের দেখতে আসেন হান্নান মাসুদ এর স্ত্রী শ্যমলী সুলতানা জেদনী। তিনি আহত রোগীদের খোজ খবর নেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এই সময় তিনি বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসীদের হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই বিষয়ে পরে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

হাতিয় উপজেলা এনসিপির আহবায়ক শামছুল তিব্রিজ জাগো নিউজকে জানান, বুধবার রাত থেকে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আজ ভোট কেন্দ্রে যেতে সবস্থানে বাধা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, অনেক জায়গায় এনসিপির কর্মীদের উপর হামলা করে অন্তত ৫০ জনকে আহত করা হয়েছে। অনেককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যানবাহন না থাকার কারনে অনেক লোককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির মিডিয়া বিভাগের সদস্য জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, এনসিপি কর্মীদের হামলায় বিএনপিরও অনেকে আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, কয়েকটি জায়গায় হামলা হয়েছে বলে তিনি শুনেছি। তবে যেখানে খবর পাওয়া গেছে সেখানে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী একযোগে তা নিয়ন্ত্রণ করেছে।

আইএইচএম/এমএসএম