ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাধা না দেওয়া এবং নির্বাচনি শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও দুজন পোলিং অফিসারকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কংশেরকূল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফিরোজ হোসেন।
ফিরোজ হোসেন জানান, প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাধা না দেওয়ায় কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রিসাইডিং ও দুইজন পোলিং অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে একই উপজেলায় বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষ প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে।
বিরুনীয়া দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বুথে এজেন্ট পরিচয়ে বসে আছেন কয়েকজন যুবক। তাদের পরিচয়পত্রে নিজের নাম বা তিনি কোন প্রার্থীর এজেন্ট তার বিষয়ে কিছু লিখা নেই। শুধু প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর দেওয়া আছে।
বিরুনীয়া কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুজিবুর রহমান বলেন, আমি একটু অসুস্থবোধ করছিলাম, তাই খেয়াল করিনি। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের সামনেই এজেন্টদেরকে নিজেদের প্রতীকের নাম লিখতে অনুরোধ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রের কয়েকজন বলেন, এই কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকরা অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে নিজেরাই এজেন্ট সেজে বসে আছেন।
দীপালি আক্তার নামের এক নারী ভোটার জানান, ভোট দিতে গেলে তাকে বলা হয়, তিনি কোথায় ভোট দিচ্ছেন, তা নজরে রাখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হতে পারে, এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, অনেক কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছি। এগুলো করেছে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকরা। এটা প্রহসনের নির্বাচন।
কামরুজ্জামান মিন্টু/কেএইচকে/এমএন