লাইফস্টাইল

পেঁয়াজকলির ফুল ফেলে দিচ্ছেন, জানুন খেলে কী উপকার হবে

আমাদের রান্নাঘরের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজ। তরকারি থেকে ভর্তা-সবখানেই পেঁয়াজের ব্যবহার স্বাদ বাড়ায় কয়েকগুণ। পেঁয়াজকলিও নানা রান্নায় ব্যবহার হয়, বিশেষ করে ভাজি, স্যুপ কিংবা নুডলসে।

তবে অনেক সময় দেখা যায়, পেঁয়াজকলিতে ফুল ফুটে গেছে। তখন বেশিরভাগ মানুষ সেটি কেটে ফেলে দেন, ভেবে নেন আর খাওয়ার উপযোগী নয়। অথচ এই ফুল ফেলে দেওয়া ঠিক নয়। পেঁয়াজকলির ফুলও খাওয়া যায় এবং এটি বেশ পুষ্টিকর।

আমাদের রান্নার অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজ। পেঁয়াজের কলি ও আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। পেঁয়াজ কলি অনেক ধরনের রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। তরকারিতে পেঁয়াজের মিশিয়ে দিলে স্বাদ অনেকটা বাড়ে। কিন্তু পেঁয়াজ কলিতে ফুল ফুটে গেলেই আর তার স্বাদ পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ মানুষ পেঁয়াজকলির ফুল কেটে ফেলে দেন। কিন্তু এটা ফেলে দেওয়া জিনিস নয়। পেঁয়াজকলির ফুল খাওয়া যায় এবং এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। বিশেষত অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপযোগী পেঁয়াজকলির ফুল।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপযোগীপেঁয়াজ ও রসুনের মতোই পেঁয়াজকলির ফুলেও রয়েছে সালফার যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,যদিও পরিমাণে কিছুটা কম। তবু পুষ্টিগুণে এটি অবহেলার নয়। এতে থাকা প্রিবায়োটিক উপাদান ও ফাইবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। ফলে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় থাকে, প্রদাহ কমে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বাড়ায়।

হজমে সাহায্য করে পেঁয়াজকলির ফুলহজমের সমস্যায়ও পেঁয়াজকলির ফুল উপকারী হতে পারে। পেটফাঁপা, গ্যাস বা ভারী খাবারের পর অস্বস্তি ক্ষেত্রে এটি স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। যাদের হজমশক্তি তুলনামূলক দুর্বল বা ঘন ঘন অম্বলের সমস্যা হয়, তাদের জন্য বেশ বেশ উপকারী।

পেঁয়াজের মতোই একই উপাদান রয়েছে পেঁয়াজকলিতেআয়ুর্বেদিক চর্চায়ও পেঁয়াজকলির ব্যবহার রয়েছে। এতে ডাইজেস্টিভ ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক। পেঁয়াজকলির ফুল খেলে সেই উপকার পাওয়া যেতে পারে।

পেঁয়াজকলির ফুল কি সবাই খেতে পারেপেঁয়াজকলির সেই অর্থে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে সবাই খেতে পারবে না। যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম রয়েছে বা পেঁয়াজজাতীয় খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

খাওয়ার ক্ষেত্রে পেঁয়াজকলির ফুল সালাদে কাঁচা ব্যবহার করা যায়, হালকা ভেজে নেওয়া যায় কিংবা অন্য সবজির সঙ্গে মিশিয়েও রান্না করা যায়। তবে অতিরিক্ত তাপে পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে, তাই অল্প আঁচে বা কম সময় রান্না করাই উত্তম।

সূত্র:দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:শীতকালীন যে সবজি ওজন কমাতে সাহায্য করে যে কারণে ডাক্তার শীতে গাজর খেতে বলেন 

এসএকেওয়াই/