কক্সবাজার জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এম এ মান্নান। চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা হতে খন্ড খন্ড কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার ধারাবাহিকতায় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের দাবিতে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর পর্যন্ত সময়ে ফাইনাল ঘোষণায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ ফলাফল প্রচার করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া): বিএনপির সালাউদ্দিন আহমদের জয়কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ৫ লাখ ৪০হাজার ৪৯০ জন ভোটারের মাঝে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট পড়েছে ৬৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। তার মাঝে ৬ হাজার ১৬২ ভোট বাতিল হয়েছে। পোস্টাল ব্যালেটসহ ১৭৮টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত সালাউদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সারওয়ার আল কুতুবী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৮ ভোট।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া): বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জয়কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১ জন ভোটারের মাঝে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০৯জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটের হার ৬০ শতাংশ। তার মাঝে বাতিল হয় ৫ হাজার ৫২৪টি ভোট। পোস্টাল ব্যালেটসহ মোট ১২৫টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির আলমগীর ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিয়াউল হক (হাতপাখা) ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৭৫৭ ভোট ও গণঅধিকার পরিষদ এস এম রোকনুজ্জামান খান (ট্রাক) পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও): বিএনপির লুৎফুর রহমানের বিজয়কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৪ জন ভোটারের মাঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪জন। ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বাতিল হয় ৫ হাজার ৬০৬ ভোট। পোস্টাল ব্যালেটসহ মোট ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন একলাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহীদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন একলাখ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (ফুটবল) পেয়েছেন ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া (আনারস) পেয়েছেন ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার (প্রজাপতি) পেয়েছেন ৩৬৭ ভোট।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ): হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শাহজাহান চৌধুরীর জয়-কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন ভোটারের মাঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩১জন। ভোটের হার ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বাতিল হয়েছে ৪ হাজর ৮৯৯টি ভোট। পোস্টাল ব্যালেটসহ ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নূর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। বিএনপির প্রার্থীর কাছে মাত্র এক হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক (হাতপাখা) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সাইফুদ্দিন খালেদ (সিংহ) পেয়েছেন ৩৭৯ ভোট।
সূত্র মতে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় হতে কক্সবাজার বিএনপির ঘাটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট আমলে জোট সঙ্গী জামায়াত কক্সবাজার-২ আসনে জয় পায়। এবার জোট বহির্ভূতভাবে নির্বাচনে লড়ার শুরুতে বিএনপির দূর্গে আঘাত হানার কথা জানায় জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু চুড়ান্ত প্রচেষ্টায় বিএনপিকে টপকাতে পারেনি জামায়াতের প্রার্থীরা।
সায়ীদ আলমগীর/কেএসকে