জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির নেতা সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় পঞ্চগড়ের একটি মসজিদের খতিবকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে মসজিদ কমিটির দাবি, ভোট নয়, মসজিদে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ায় তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কুচিয়ারমোড় জামে মসজিদে। ওই খতিবের নাম আব্দুল জব্বার।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, খতিব আব্দুল জব্বার ওই মসজিদে ১৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এবারের নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের শাপলা কলির পক্ষে ভোটের প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পরদিনই মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে মোবাইল করে খতিবের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
খতিব আব্দুল জব্বার বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে আমি সবার ইমাম। আসল কথা নির্বাচনে আমি শাপলা কলির পক্ষে কাজ করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে বাদ দিয়েছে। আব্দুল হাকিম নামে যিনি আমাকে ফোন করে যেতে নিষেধ করেছেন, তিনি আগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এখন বিএনপির হয়ে কাজ করেন। আমি মসজিদের সবার কাছে বিদায় নিয়ে আসতে চাইলেও তারা সুযোগ দেননি।’
এ বিষয়ে আব্দুল হাকিম বলেন, ‘খতিব আব্দুল জব্বার মসজিদে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। মিলাদ মাহফিলে যাওয়ার আগে তিনি জেনে নেন আয়োজক ব্যক্তি কোন দল করেন। আওয়ামী লীগ করলে তার বাড়িতে যাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। এ কারণে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। আমরা নতুন খতিব দেখছি।’
জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমরা ব্যাপারটা নিয়ে বসেছিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রমজান মাসের পর তাকে বাদ দেবো।’
কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেন, এমন ঘটনা শুনেছি। ভোটের কারণে খতিবকে সরিয়ে দেওয়াটা অবশ্যই অন্যায়। প্রকৃত ঘটনা জানতে আমি খোঁজ নেবো।
সফিকুল আলম/এসআর/জেআইএম