ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে পরিষদের কার্যক্রমে দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এছাড়া পরবর্তী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব পড়বে তা এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবিধানে এ পরিষদের শপথ নেওয়ার বিধান নেই উল্লেখ করে এমপি হিসেবে বিএনপি দলীয় সদস্যরা শপথ নেওয়া এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনগণের যে ইচ্ছা এবং গণভোটের যে রায়, সেটার প্রতিফলন ঘটাতে গেলে আগে সংসদে যেতে হবে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি সংবিধানে নেই উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা তো সাংবিধানিকভাবে করতে হবে। এ মুহূর্তে সংবিধানে এটা নেই। সংবিধান পরিবর্তনের আগে এটার তো এ মুহূর্তে কোনো সুযোগ নেই। আমরা তো সংবিধানের কথা সবসময় বলি। সাংবিধানিকভাবে সংবিধান চলতে হবে তো, তাই না?
শপথ নেওয়া বা না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারা শপথ নেবেন, কারা নেবেন না; সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা নির্বাচিত হয়েছি আমরা মনে করি জনগণের রায়কে যদি সম্মান জানাতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের সংসদে যেতে হবে, জনগণের পক্ষে কথা বলতে হবে। কার্যকর করার জন্য সব সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করবেন। ৬০ সদস্যের কোরাম হলেই এ পরিষদ কাজ করতে পারে।
ওই আদেশের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয় লাভ করেছে।
এদিকে, বিএনপি এ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলেও জামায়াত-এনসিপির ৭৭ জন নির্বাচিত সদস্য একই সাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় দলীয়ভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে এনসিপি। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘গণভোটে জনরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করে শপথ নিতে যাচ্ছে সরকার।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোটের রায়ের ফলে যদি জুলাই আদেশ বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের আলাদা কোনো প্রয়োজন থাকে না। অন্যদিকে, যেসব সদস্য ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন, তারা চাইলে জুলাই আদেশের ভিত্তিতেই নিজেরাই নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে পারেন।
এমএএইচ/এএসএম