দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে মন্ত্রিত্ব। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আজ। তার এ অর্জনের মধ্য দিয়ে ফেনীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে বলছেন নেতাকর্মীরা। জেলাজুড়ে বইছে খুশির আমেজ।
জীবনে প্রথমবার নির্বাচন করে এমপি হয়েই বাজিমাত করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিত্বের ডাক পড়ায় দাগনভূঞায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পৌর শহরে উল্লাস ও সর্বত্র মিষ্টি বিতরণ চলছে।
নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ৭০-এর নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত এই আসন থেকে চারবার আওয়ামী লীগ, দুবার জাতীয় পার্টি ও তিনবার বিএনপি বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে বিজয়ী প্রার্থীরা ছিলেন সোনাগাজী-ফেনী সদর আসনের। পরে ফেনী-৩ আসনে দাগনভূঞা-সোনাগাজী আসন হলে বিজয়ী প্রার্থীরা ছিলেন সোনাগাজীর।
শিল্পপতি মিন্টু এর আগে এফবিসিসিআইয়ের দুইবারের সভাপতিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বাবা প্রয়াত হাজী সফি উল্যাহ দাগনভূঞা উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যান এবং ভাই আকবর হোসেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ছিলেন।
তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশর (ওয়েব) চেয়ারপারসন। তার বড় ছেলে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।’
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, ‘মিন্টু ভাই নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে শতভাগ চেষ্টা করবেন। চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা রাখি।’
ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার পর ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি। এবার মন্ত্রী পাওয়ায় দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান হলো। এরমধ্য দিয়ে ফেনী জেলায় উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।’
ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। একই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে বস্ত্র ও পাট এবং বন ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে বিদায় নেওয়ার পর দীর্ঘসময় ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসআর/এএসএম