শিক্ষা

রোজার ছুটির জটিলতা কাটেনি, ‘আপাতত’ খোলা থাকছে স্কুল

দেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজানের শুরু থেকেই বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট- তা স্থগিত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপিলও করেছে। তবে সেই আপিলের শুনানি হয়নি। এতে রোজায় স্কুলে কবে ছুটি শুরু হবে, তা স্পষ্ট জানা যায়নি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ হোসেন জানান, ৮ মার্চ থেকে এবার ছুটি শুরুর কথা ছিল। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে তা চেম্বার আদালতে স্থগিত করা হয়েছে। এখন আপিলের শুনানির পর আদালত যে নির্দেশনা দেবেন, সেটাই কার্যকর হবে।

সেক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যেহেতু আগের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে, তাই আপাতত স্কুল খোলা থাকবে। যদি আপিলে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট- তাহলে ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় স্কুলের ক্লাস কার্যক্রম যথাযথভাবে চলবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনরোজায় যে কারণে স্কুল খোলা রাখতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় রমজানে মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে স্থগিত 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের স্কুল খোলা থাকবে। ৮ মার্চ থেকে ছুটি শুরু হবে।

তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষকরা। তারা রোজার শুরুর দিন থেকে স্কুলে ছুটির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, দেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও মাদরাসায় আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে এ ছুটি।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো রমজানের প্রথমার্ধ (১৬/১৭ দিন) পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রাথমিকের বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্সের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন বলেন, হাইকোর্ট শুধু হাইস্কুলের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের আদেশে প্রাথমিকের কোনো কথা নেই। ফলে ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস হতে পারে। যদি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে আগেও বন্ধ হতে পারে।

এএএইচ/কেএসআর