আন্তর্জাতিক

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখা উচিত: মমতা ব্যানার্জী

বাংলাদেশে কেমন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হলো, সেটা ভারতের নির্বাচন কমিশনের দেখে শেখা উচিত। এমনই মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নের সভাঘরে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

চলতি বছরের আর কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হবে। তার আগে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

এদিন পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নের সভা ঘরে গণমাধ্যমের কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে মমতা ব্যানার্জী বলেন, কয়েকদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি, যেদিন থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে।তাই বলছি নির্যাতন কমিশন। আমি ইলেকশন কমিশন বলতে রাজি নই, আমি ওনার নাম নিতে চাই না। যারা তুঘলকি কাজ করছে, হিটলারি অত্যাচার চালাচ্ছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, ভোট দিয়ে জনগণ সরকার নির্বাচন করে। কোনো তুঘলকি কমিশন না। তিনি ভোটের আগে ভোটটা করিয়ে দেন কারো পক্ষে।

মমতা ব্যানার্জী আরও বলেন, এমনিতেই জানেন হরিয়ানা, বিহার, মহারাষ্ট্র নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। অভিযোগটা তো সত্য। সবকিছু তো চাপা থাকে না একদিন সত্য বেরোবেই। আমার কথা হচ্ছে, বিহারের নির্বাচনে এসআইআর করতে গিয়ে যে সমস্ত নথি গ্রহণ করা হলো কেন তা বাংলায় হবে না? কেন বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে?

এরপরেই মমতা ব্যানার্জী সম্প্রতিক বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, ওদের দেখা উচিত। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে ভোট হলো। সবাই ভেবেছিল অনেক অশান্তি, ঝামেলা হবে। কিন্তু দেখলেন কেমন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হলো। গণতান্ত্রিক ভারতে কমিশনের লজ্জা হওয়া উচিত। ওদের থ্রেট কালচার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তুঘলকি রাজ্যেও এ জিনিস হয়নি।

এরপরে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, যেদিন থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট।

মমতার কথায়, একটা চোর চুরি করলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়। সেখানে ই,আর,ও-দের বিনা প্রশ্নে সাসপেন্ড কেন?

মমতা ব্যানার্জী এরই মধ্যে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা কার্যত আটকে দিয়ে কমিশন তুঘলকী আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন। ভোটের কয়েক মাস আগেই এস আই আর শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ডিডি/এমএসএম