শিক্ষা

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী হলেন এহছানুল হক মিলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এ সরকারের দুটি মন্ত্রণালয় সামলাবেন চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন মিলন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়ান।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিলন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার কাঁধে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব তুলে দেন। সে সময় তিনি দেশের পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসেন। পরীক্ষা চলাকালে নকল ধরতে প্রোটোকল ছাড়াই হেলিকপ্টারে চড়ে একই দিনে একাধিক শিক্ষা বোর্ডের অনেক কেন্দ্র পরিদর্শন করতেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধেও তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন।

শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, মিলন তার পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। বিশেষ করে কারিকুলাম উন্নয়ন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়নে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এহছানুল হক মিলন ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি নেন। পরে ব্রুকলিন কলেজ ও বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে ওষুধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।

মিলন ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।

রাজনীতিতে এসে মিলন ১৯৯৬ সালের চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন। পান ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবু নসর আশরাফী পান ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট।

এএএইচ/একিউএফ