অর্থনীতি

অর্থনীতি চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস চান ব্যবসায়ীরা

অর্থনীতিকে গতিশীল ও ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনঃস্থাপনে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থের প্রবাহ সহজতর নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পদক্ষেপ দেখতে চায় ব্যবসায়ী সমাজ।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। সঙ্গে আছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা।

নতুন মন্ত্রিসভা বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

বর্তমানে ব্যাংকখাতে লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকারকে কার্যকর ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এমন নীতি দরকার, যা অর্থনীতিকে আবার গতিশীল করবে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।-বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আশা করি নতুন সরকার উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সম্মান দেবে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করবে। বর্তমানে অর্ডারের পরিস্থিতি কঠিন। কিছু ব্যবসায়িক চর্চা সংস্কারের প্রয়োজন। যেমন- ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত কনস্ট্রাকশন পলিসি অনুসরণ করলেও ব্যবসা করা এখনো কঠিন।’

‘প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সুদের হার সমন্বয় করা প্রয়োজন। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না, ততক্ষণ উৎপাদন খাতে চাহিদা বাড়বে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। এনার্জি খাতেও সংকট রয়েছে। যার সমাধান অবিলম্বে প্রয়োজন।’ বলেন এই ব্যবসায়ী।

বর্তমানে পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট। অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাই স্বল্পমেয়াদি হলেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর সমাধান দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শিল্পখাত আরও দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব।-বিজিএমইএ পরিচালক ফয়সাল সামাদ

পারভেজ বলেন, ‘গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ যেমন, মার্কিন ট্যারিফের প্রভাব মূল্যায়ন ও পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ২০২৬ সালে আসছে। এ সময় কীভাবে এ পরিস্থিতি পরিচালনা করা যায়, তা আগে থেকেই মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন

সেহরি-ইফতার-তারাবিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের

বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উত্তরণে চাই সুশাসন ও নীতির ধারাবাহিকতা

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারকে অনুরোধ করি, সমস্ত প্রাসঙ্গিক স্টেকহোল্ডার—ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও সচিবদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার কার্যকর করা উচিত। যাতে ব্যবসায় খরচ কমানো যায় এবং নেট রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হয়। এসব পদক্ষেপ ব্যবসায়িক পরিবেশকে শক্তিশালী করবে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা প্রথমেই যেটা চাই সেটা হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং লাগাম টেনে ধরতে হবে। অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে হলে এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

‘বর্তমানে ব্যাংকখাতে লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকারকে কার্যকর ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এমন নীতি দরকার, যা অর্থনীতিকে আবার গতিশীল করবে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।’-বলেন তিনি।

বিজিএমইএ পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘বর্তমানে পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট। অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাই স্বল্পমেয়াদি হলেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর সমাধান দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শিল্পখাত আরও দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব।’

ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারকেও বড় প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করে ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ১৬ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা শিল্পের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুদের হার কমানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে। উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।’

আইএইচও/এএসএ