রমজানের শুরুতে ইসরায়েলিদের জন্য আল-আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরও জোরদার করেছে। এছাড়া বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভারী অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে গান গাওয়া ও নাচতে দেখা যায়।
ইয়নেট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত এই স্থানে অনুপ্রবেশের আয়োজন করা উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো প্রতিদিন এখন চার ঘণ্টার বদলে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করতে পারবে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ভিজিট শুরু হবে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে (আগে ছিল সকাল ৭টা) এবং শেষ হবে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (আগে ছিল সকাল ১১টা)।
ফিলিস্তিনে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া পবিত্র রমজান মাসের ঠিক আগে জেরুজালেম জেলা কমান্ডার আভশালোম পেলেদ এই সিদ্ধান্ত নেন।
গত মাসে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির পেলেদকে জেরুজালেম জেলা কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বেন গভির নিজেও একাধিকবার আল-আকসায় অনুপ্রবেশ করেছেন এবং এই স্থানে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
المستوطنون يستبيحون المسجد الأقصى المبارك ويغنون ويرقصون في الأول من شهر رمضان المبارك. pic.twitter.com/n02r9FZFjZ
— شبكة قدس الإخبارية (@qudsn) February 18, 2026ওয়াফা সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসার ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে কোনো কারণ না জানিয়েই মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে রমজান মাসে মুসলিম ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। আগে সাধারণত কয়েক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায়ের জন্য সেখানে সমবেত হত। এখন সে সংখ্যা কমে হাজারে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আল-আকসায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ফিলিস্তিনির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হবে।
শুধু ৫০ বছরের বেশি বা ১২ বছরের কম বয়সি সর্বোচ্চ ১০ হাজার মানুষ আল-আকশা মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুধু জুমার দিনে সকলের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, প্রবেশের জন্য আগাম ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অনুমোদন নিতে হবে।
সাবেক জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরিকেও আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন—এই পদক্ষেপগুলো আল-আকসার প্রতি ইসরায়েলের অভিলাষ নিশ্চিত করে এবং দেখায় যে তারা মুসলমানদের স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে রোজা পালনের সুযোগ দিতে চায় না।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলমানদের রমজান পালন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
ইয়নেট জানিয়েছে, রমজানের শেষ ১০ দিনে অন্যান্য বছর সেটলারদের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ থাকত। এই রমজানে সেটলারদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না তা এখনো বিবেচনায় রয়েছে। রমজানের শেষ ১০ দিনে সাধারণত কয়েক লাখ মুসল্লি ইবাদতের জন্য সমবেত হন, যাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় মসজিদে অবস্থান করেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
কেএম