ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হলেও, এরপর টানা দরপতন দেখা দিয়েছে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হলো।
বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকা বড় হয়ে যায়। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। মাঝে কিছু সময়ের জন্য বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও, লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতন হয়। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১৩টির। আর ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুননতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে পতনে শেয়ারবাজারআজ থেকে নতুন সময়ে চলবে সরকারি অফিস-আদালত-ব্যাংকবড় উত্থানের পর বিক্রির চাপে পতনে শেয়ারবাজার
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬৩টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৬৩টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৭টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২২টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে নেমে গেছে।
সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৫৯ কোটি ৯৯ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৩৫ কোটি ৭৭ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৪১ লাখ টাকার। ১৪ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ঢাকা ব্যাংক, সায়হাম কটন, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, রহিমা ফুড, মুন্নু ফেব্রিক্স এবং সিটি ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৩টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
এমএএস/ইএ