লাইফস্টাইল

রোজায় দুর্বলতা কাটাতে যা করবেন

রমজান মানেই সারাদিন রোজা রাখা, যা আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। সারাদিন খাবার ও পানির অভাব থাকায় অনেকের শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই রোজায় সুস্থতা বজায় রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত বিশ্রাম ও হালকা শারীরিক কার্যকলাপ অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম কয়েক রোজায় দুর্বলতা স্বাভাবিক। দিনের বেশিরভাগ সময় পানির অভাব এবং খাবারের সীমিততা শরীরের শক্তির স্তর কমিয়ে দেয়। এছাড়া শরীরকে নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হতে কিছুদিন সময় লাগে। প্রথম কয়েকদিনে অতিরিক্ত পানি ও শর্করা বের হয়ে যাওয়ায় মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।

সেহরি ও ইফতারের সঠিক খাদ্যাভ্যাসরোজার প্রথম সপ্তাহে দুর্বলতা কমাতে সেহরিতে এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত যা দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করে। প্রোটিন এবং আঁশ সমৃদ্ধ খাবার ও ফলমূল অত্যন্ত উপযোগী। এই ধরনের খাবার হজম হতে সময় নেয়, ফলে সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ইফতারের সময় শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগানোর জন্য খেজুর, ফল এবং হালকা স্যুপ বা স্মুদি আদর্শ। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি, তেলতেলে খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করতে পারে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব জরুরি।

পানি পান সেহরিতে একসঙ্গে বেশি পানি খেলে শরীরে চাপ পড়তে পারে। বরং দিনের মধ্যে পানি কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পান করা উচিত। ইফতারে ডাবের পানি, ফলমূলের জুস, স্মুদি রাখলে উপকার পাওয়া যায়।

ঘুম ও বিশ্রামরোজায় ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা জরুরি। যারা রাতে দেরিতে ঘুমান, তাদের সেহরির আগে পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া উচিত। রাতের ঘুম কম হলে দিনের বেলা শরীর ক্লান্ত থাকে। প্রয়োজনে দিনে সংক্ষিপ্ত সময় বিশ্রাম নিন। অতিরিক্ত কাজ বা পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়া

রোজার প্রথম কয়েকদিন দুর্বলতা স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীর নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তাই প্রথমে নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রেখে হালকা কার্যক্রম করা উচিত।

হালকা হাঁটাচলাশরীরচর্চার অভ্যাস না থাকলে বেশি হাঁটাচলা শুরু করার দরকার নেই। ইফতারের পর বা নামাজের আগে ১৫-৩০ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরের দুর্বলতা কমে।

ঘুমানোর আগে ও সাহরির পরে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করা উচিত। এটি শুধু দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, মুখের সতেজতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের আগে হাত ধোয়া অবশ্যই প্রয়োজন। হাত পরিষ্কার না থাকলে জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

দিনের কাজের সময় ঘুম এবং বিশ্রামের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ন। দিনে সুযোগমতো ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা ভালো, যা শরীরকে ক্লান্তি থেকে মুক্ত রাখে। দৈনন্দিন কাজকর্ম এমনভাবে সাজানো উচিত, যাতে রাতে পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নেওয়া সম্ভব হয়।

ঘুমানোর আগে ও সাহ্‌রির পরে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করতে ভুলবেন না। এটি শুধু দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, মুখের সতেজতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ । খাবারের আগে হাত ধোয়া অবশ্যই প্রয়োজন। হাত পরিষ্কার না থাকলে জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। দিনে সুযোগ থাকলে ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।

সূত্র: গালফ নিউজ, মায়ো ক্লিনিক ও অন্যান্য আরও পড়ুন:রোজার আগে ইফতারের সঠিক প্রস্তুতির টিপস রোজায় নতুন মায়েদের যত্ন নেবেন যেভাবে 

এসএকেওয়াই/