লাইফস্টাইল

আলো জ্বালিয়ে নাকি পুরো অন্ধকার, কীভাবে ঘুমানো স্বাস্থ্যকর?

আমাদের অনেকেরই রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে। কেউ বিছানার পাশের ছোট বাতি জ্বালিয়ে রাখেন, কেউ টিভির ক্ষীণ আলোতে ঘুমিয়ে পড়েন। আবার ঘরে পর্দার ফাঁক দিয়ে রাস্তার আলো ঢুকে পড়ে। বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের আলো শরীরের ওপর এমন প্রভাব ফেলতে পারে যা আমরা বুঝতে পারি না।

এর মূল কারণ আমাদের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক। এই জৈবঘড়ি দিন-রাতের আলো-অন্ধকারের চক্র অনুযায়ী কাজ করে। দিনের আলো আমাদের শরীরকে সজাগ রাখে, আর অন্ধকার শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। অন্ধকার নামলে মস্তিষ্ক মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন নিঃসরণ করে, যা ঘুম আসতে সাহায্য করে এবং গভীর ঘুম বজায় রাখে। কিন্তু ঘরে আলো থাকলে মেলাটোনিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। ফলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি নাইট মোড-এ যেতে পারে না।

আসুন জেনে নেওয়া যাক আলোর সংস্পর্শে ঘুমালে কী হতে পারে-

১. ঘুমের মানের অবনতিকৃত্রিম আলোর উপস্থিতি ঘুমের গভীরতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আলোতে ঘুমালে সেই ঘুম হবে তুলনামূলক হালকা ও অগভীর। মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে, যার ফলে ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। এর প্রভাব পড়ে পরদিন সকালে-ঘুম পূর্ণ না হওয়ায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং অবসাদ অনুভূত হতে পারে।

গভীর ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। এ সময় শরীর নিজেকে পুনরুদ্ধার করে, ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত হয় এবং মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্যকে সঠিকভাবে সংগঠিত ও সংরক্ষণ করে। অর্থাৎ শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক সতেজতার জন্য গভীর ঘুম অপরিহার্য। তাই ভালো, টানা এবং মানসম্পন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে ঘরকে যতটা সম্ভব অন্ধকার ও শান্ত রাখা জরুরি।

২. হরমোনের ভারসাম্যের ব্যাঘাতমেলাটোনিন শুধু ঘুমের জন্যই নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বিপাক প্রক্রিয়া এবং কোষ পুনর্গঠনের সঙ্গেও যুক্ত। দীর্ঘদিন আলোতে ঘুমালে এই হরমোনের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হতে পারে। ফলে শরীরের সামগ্রিক হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৩. বিপাকীয় প্রভাবকিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে কৃত্রিম আলোতে ঘুমালে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যেভাবে ঘুমানো ভালোবিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ অন্ধকার বা যতটা সম্ভব কম আলোতে ঘুমানোই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। প্রয়োজনে খুব মৃদু ডিমলাইট ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সেটি যেন সরাসরি চোখে না পড়ে। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের স্ক্রিন ব্যবহার কমানো ভালো। ভারী পর্দা ব্যবহার করে বাইরের আলো আটকানোও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

আলো জ্বালিয়ে ঘুমানো অনেকের কাছে স্বাভাবিক বা আরামদায়ক মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি ঘুমের মান ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভালো ঘুম সুস্থ জীবনের ভিত্তি-তাই ঘুমের পরিবেশ যতটা সম্ভব অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: হেলথ শটস, টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:ওজনের ওপর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজার প্রভাব কি একইরকমডায়াবেটিস রোগী কি ইফতারে খেজুর খেতে পারবেন

এসএকেওয়াই/এএসএম