ডায়াবেটিস রোগী কি ইফতারে খেজুর খেতে পারবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সারাদিন পর অনেকেই রোজাটা ভাঙেন খেজুর মুখে দিয়ে। ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি এই ফল দ্রুত শক্তি দেয়। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায়ই দ্বিধায় থাকেন - এই খেজুরই কি রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেবে?

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি - গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। তাই এটি দ্রুত শক্তি জোগায়। কিন্তু একই সঙ্গে এতে আঁশ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। বিষয়টি তাই একপাক্ষিক নয়; নির্ভর করে পরিমাণ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।

খেজুর কি খুব বেশি মিষ্টি?

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের পুষ্টি নির্দেশিকায় উল্লেখ আছে যে - খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি থেকে কমের মধ্যে থাকতে পারে। অর্থাৎ পরিমিত খেলে এটি খুব দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায় না।

ডায়াবেটিস রোগী কি খেতে পারবেন?

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা খেজুর খেতে পারেন, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সেই হিসেবে ইফতারে ১টি মাঝারি আকারের খেজুর সাধারণত নিরাপদ হতে পারে, যদি সার্বিক খাদ্যতালিকা ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

কতটা খাওয়া উচিত?

একসঙ্গে ৩–৪টি খেজুর খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই একটি খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করে এরপর পানি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (ডাল, ডিম, ছোলা) খাওয়া ভালো। এতে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কম হয়।

খালি পেটে খাওয়ার প্রভাব

সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীর দ্রুত গ্লুকোজ শোষণ করতে পারে। তাই খেজুর খাওয়ার পর অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

কখন সতর্ক হবেন

যাদের রক্তে শর্করা আগে থেকেই অনিয়ন্ত্রিত বা যাদের ইনসুলিনের মাত্রা সমন্বয় করা হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। রোজার সময় নিয়মিত ব্লাড সুগার মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খেজুর পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। তবে পরিমিতিই এখানে মূল চাবিকাঠি।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।