রাজনীতি

জনগণের আস্থা অর্জন করে মেয়র নির্বাচন করবো: দক্ষিণ সিটির প্রশাসক

ভবিষ্যতে মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সালাম।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুকে এ ঘোষণা দেন তিনি। আব্দুস সালাম লেখেন, ‘কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে আগামীতে মেয়র নির্বাচন করবো।’

এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করবো, ইনশাআল্লাহ্।’

ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ সন্তান।

এদিকে আব্দুস সালামসহ বিএনপির ছয়জন নেতাকে দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকর। মঙ্গলবার তারা কাজে যোগ দেন।

বিএনপির বর্ষীয়ান এই নেতা একসময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন।

আব্দুস সালাম এক সময় ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ছিলেন। পরে ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়ে যায়। তিনি এখন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি। সেই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হলেও আব্দুস সালাম এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা আজ যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে আইন ও নীতিমালা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হয় না। ট্রাফিক আইন অমান্য করা, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা, অবৈধ দখল ও নির্মাণ এসব আচরণ নগর সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। নাগরিকরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তাহলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনগণের সমন্বয় বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করলে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

রাজধানীকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে সামাজিক অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার একা সব করতে পারবে না; জনগণ এগিয়ে এলে ঢাকাকে বদলে দেওয়া সম্ভব।

এমএমএআর/