গান আমাদের মন ভালো করে - এ কথা সবাই জানেন। কিন্তু গান গাওয়া নাকি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়!
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সক্রিয়ভাবে গান গাওয়া শরীরে কিছু ইমিউন মার্কারের মাত্রা সাময়িকভাবে বাড়াতে পারে। চলুন বিষয়টা বিস্তারিত জানা যাক -
এসইজিএ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?আমাদের লালা, মুখগহ্বর ও শ্বাসনালিতে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবডি হলো সিক্রেটরি ইমিউনোগ্লোবুলিন এ (এসইজিএ)। এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। যখন এর মাত্রা বাড়ে, তখন সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সুরক্ষা কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে।
২০০৪ সালে জার্নাল অব বিহেভিয়ারাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, কোরাসে সক্রিয়ভাবে গান গাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের এসইজিএ-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে যা ২০০ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমার প্রবণতাও দেখা যায়।
গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল - শুধু গান শোনা নয়, বরং সক্রিয়ভাবে গাইতে হবে। গান গাওয়ার সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, মুখ ও গলার পেশির সক্রিয়তা এবং আবেগীয় সম্পৃক্ততা - এসব একসঙ্গে কাজ করে। এর ফলে স্নায়ুতন্ত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ভেগাস নার্ভ ও স্ট্রেস কমানোগান গাওয়ার সময় দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ার প্রক্রিয়া ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করতে পারে, যা শরীরকে রিল্যাক্সেশন মোডে নেয়। এতে কর্টিসল কমে এবং ইমিউন প্রতিক্রিয়া ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, শ্বাসনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম ও সঙ্গীতচর্চা স্ট্রেস হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথও সঙ্গীতভিত্তিক হস্তক্ষেপে মানসিক ও শারীরিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।
কারা উপকৃত হতে পারেন?গবেষণায় কোরাস সদস্য ছাড়াও ক্যানসার রোগী ও পরিচর্যাকারীদের মধ্যেও ইতিবাচক মানসিক ও জৈবিক পরিবর্তন দেখা গেছে। দক্ষতা বা সুরের নিখুঁততা এখানে মুখ্য নয় - অংশগ্রহণই আসল বিষয়।
সূত্র: জার্নাল অব বিহেভিয়ারাল মেডিসিন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল
এএমপি/এমএস