রমজানের ইফতারে ফলের চাহিদা চিরায়ত, কিন্তু হবিগঞ্জের বাজারে এবার চিত্রটা ভিন্ন। দেশি ফলের অভাব আর বিদেশি ফলের চড়া দামের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যার কারণে ফলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা। এতে বিক্রি কমে যাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে ব্যবসায়ীদের।
জেলা সদরের সবচেয়ে বড় ফলের বাজার চৌধুরী বাজার ফল হাটা ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে দেশি ফলের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। পুরো বাজার আমদানিকৃত বিদেশি ফলের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচাকেনা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
ফল হাটা ঘুরে জানা যায়, বাজারে আপেল প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কিছু আবার ২৫০/২৬০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। মাল্টা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, কমলা ৩০০ টাকা, আঙুর কালো ৫৬০ টাকা, আঙুর সাদা ৪৬০ টাকা, লাল আঙুর ৫৫০ টাকা, ডালিম ৪৮০ টাকা, পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ড্রাগন ৩৫০ টাকা, বড়ই ৮০ থেকে ১০০ টাকা, খেজুর ৪০০-২০০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে খোলা বস্তার খেজুর ২৫০ টাকা দরে বিক্র হচ্ছে। বাজারে যে ক’জনের কাছে তরমুজ পাওয়া যায়, তারা ছোট আকারের একটি তরমুজ বিক্রি করেন ৩০০ টাকায়, আর বড় আকারের হলে তা ৬০০/৭০০ টাকা পর্যন্ত নেন। তাও ভালো হবে কি-না তার নিশ্চয়তা দেবেন না।
ফল ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, এবারের রমজানে দেশী কোনো ফল নেই। সব বিদেশি ফল। এসব ফল আমদানিতে ট্যাক্স বেশি দিতে হয়। তাই দাম অনেক বেশি। আর দাম বেশি হওয়ার কারণে বিক্রি অন্যান্য বছরের তুলনায় খুবই কম। মানুষ এতো দাম দিয়ে ফল নিতে চায় না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকা হলে তো মানুষ এসব ফল নিয়ে খাবে। না হলে এতো দামি ফল কীভাবে নেবে?
আয়ান আহমেদ সোহাগ নামের এক ক্রেতা বলেন, এবার রমজানে অতিরিক্ত দামের কারণে ফল খাওয়ায় মানুষের আগ্রহ একেবারেই কম।
চৌধুরী বাজার ফল হাটায় ফল কিনতে আসেন সদর উপজেলার পইল পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাজী মো. এনামুল হক। তিনি বলেন, অন্যান্য রমজানের চেয়ে এবারের রমজানে ফলের দাম অনেক বেশি। কিন্তু কিছু করার নেই। খেতে হলে তো নিতে হবেই।
মাওলানা ফরিদ আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, ফল খাওয়া এখন মানুষের ক্ষমতার বাইরে। আমার মনে হয় সিন্ডিকেট বন্ধ করে দিলে বাজারে ফলমূলের দাম অনেক কমে যাবে। সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে গরিব মানুষের ভালো জিনিস কিনে খাওয়ার ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, এখনতো দেশী ফলের মৌসুম না। সব ফল বাইরে থেকে আসে। তাই সিন্ডিকেট করে এর দাম বাড়ানো হয়। কমলা, আপেল, আঙুর আমাদের মতো গরিব মানুষের কিনে খাওয়া সম্ভব নয়।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/কেএইচকে/জেআইএম