মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগং থেকে ফেরার সময় মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়েছিলেন চীনের শেনঝৌ-২০ মিশনে থাকা নভোচারী দল। রিটার্ন ক্যাপসুলের জানালায় হওয়া ফাটল এক পর্যায়ে জরুরি অবস্থায় রূপ নেয়। কীভাবে অল্পের জন্য তাদের জীবন রক্ষা পেয়েছে তা নিয়ে অবশেষে তথ্য প্রকাশ করেছেন মিশনের নভোচারীরা।
কী ঘটেছিল?
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর পৃথিবীতে ফেরার প্রস্তুতিকালে কমান্ডার চেন দং চূড়ান্ত পরীক্ষা চালানোর সময় জানালায় একটি ত্রিভুজাকৃতির দাগ দেখতে পান। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন বাইরে কোনো বস্তু লেগে আছে। পরে বুঝতে পারেন, সেটি আসলে জানালার কাঁচে ফাটল—যার কিছু অংশ সম্পূর্ণ ভেদ করেছিল।
চেন দং, চেন ঝংরুই এবং ওয়াং জিয়ে—এই তিন নভোচারী তখন দ্রুত গ্রাউন্ড কন্ট্রোল ও শেনঝৌ-২১-এর রিলিফ ক্রুর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি যাচাই করেন। প্রকৌশলীরা ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন।
ফিরতে কেন দেরি হলো?
ফাটল ধরা পড়ার পর ৫ নভেম্বরের নির্ধারিত প্রত্যাবর্তন স্থগিত করা হয়। এর ৯ দিন পর শেনঝৌ-২১ মহাকাশযানে করে তারা নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরেন। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর তারা উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে অবতরণ করেন।
এই মিশনে তারা মোট ২০৪ দিন মহাকাশে কাটান যা চীনা নভোচারীদের জন্য একটি রেকর্ড। তবে মানব ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় মহাকাশ অবস্থানের রেকর্ড ৪৩৭ দিন।
নভোচারীরা সন্দেহ করছেন, কোনো মহাকাশের আবর্জনা (স্পেস ডেব্রিস) ক্যাপসুলে আঘাত করেছিল। বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে রকেটের অংশ, পুরোনো স্যাটেলাইটসহ নানা ধ্বংসাবশেষ ভেসে বেড়াচ্ছে, যা মহাকাশযানের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কক্ষপথে আবর্জনার পরিমাণ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সমস্যা সমাধানে আবর্জনা-ধরার বিশেষ মহাকাশযানের মতো ধারণা থাকলেও তা এখনো বৃহৎ পরিসরে কার্যকর হয়নি।
শেনঝৌ-২০ মিশনের এই ঘটনা চীনের মহাকাশ কর্মসূচির ইতিহাসে প্রথম বড় জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নভোচারীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।চ
সূত্র: দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল
কেএম