চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) দেশের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে যে প্রার্থীই জিতেছেন তিনি মন্ত্রী-উপদেষ্টা হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হককে বিপুল ভোটে হারিয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-৯ আসনটি প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার অন্যতম কেন্দ্রও। এ সংসদীয় এলাকার মধ্যে রয়েছে আদালত পাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিএমপির পুরোনো হেডকোয়ার্টার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, সরকারি মহসীন কলেজ, চারটি সরকারি হাইস্কুলসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
পাশাপাশি দেশে ভোগ্যপণ্যের দ্বিতীয় বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, রয়েছে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের মতো শত বছরের পুরোনো বাজার। চট্টগ্রাম বিপণি-বিতানের অবস্থানও এই সংসদীয় এলাকার মধ্যে। যেটিকে মানুষ নিউমার্কেট হিসেবেই চেনেন।
চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, সরকারি স্থাপনা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের অবস্থানও এই নির্বাচনি এলাকার মধ্যে।
সবমিলিয়ে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম-৯ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পরিবহন সমস্যা, ফুটপাত দখল বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, কিশোরগ্যাংসহ নানান সমস্যা রয়েছে আসনটিতে। এ আসনে বিজয়ী আবু সুফিয়ান জাগো নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সমস্যাগুলো সমাধানের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইকবাল হোসেন।
সংসদ সদস্য হওয়ার পর এলাকার কোন বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন?সংসদ সদস্য হলে নির্ধারিত কোনো চেয়ারে কিংবা পদে বসে কাজ করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এখনো পার্লামেন্ট শুরু হয়নি। নতুন করে কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভূত হচ্ছে না। তবে জনগণের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় একটি পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমরা কাজ করছি।
এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সামনের দিনগুলোতে কী পদক্ষেপ নেবেন?আমি শপথ নেওয়ার পর আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এটি আড়াইশ শয্যার একটি হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতাল হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পর আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে রোগীরা সেবা নিতে আসে। রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষমদেরই দায়িত্বে রাখা হবেচাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করাই বড় চ্যালেঞ্জ: বাতেনমানুষ যেভাবে দেখতে চাইবে সেভাবেই চলবে আইন মন্ত্রণালয়বিভাজনের সমাজ চাই না, সবাইকে নিয়ে কাজ করবো: জাহাঙ্গীর হোসেন
পাশাপাশি আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালকে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করার পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল। এখানে জায়গার অভাব নেই। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করা সম্ভব হবে। প্রথমে দশ তলার দুটি ভবন হলে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।
ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহনে চাঁদাবাজি রোধে কী পদক্ষেপ নেবেন?আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। যার কাজ সে-ই করবে। কারও কাজে কেউ বাধা সৃষ্টি করবে না। নতুন বাংলাদেশে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।
এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আছে, এ বিষয়ে কী বলবেন?আমাদের এলাকায় শুধু কিশোর গ্যাং নয়, কোনো গ্যাং কালচারই থাকবে না। ইনশাল্লাহ।এ আসনে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান জয়ী হয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন।
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মান্নান জয়ী হয়ে পরে প্রথমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং এক বছর পর একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান জয়ী জন। প্রথমে খাদ্যমন্ত্রী, পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু নির্বাচিত হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জয়ী হলে তাকে ওই সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী হন।
এমডিআইএইচ/এএসএ