তথ্যপ্রযুক্তি

সেলফি তুলে বিপদে পড়তে পারেন

ধরুন আপনি আপনার বাড়িতে নিজের শোবার ঘরে বসে একটি সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া আপলোড করলেন। সেই ছবিতে আপনার বন্ধুদের অনেক রিয়্যাক্ট এবং ভালো ভালো কমেন্ট পাচ্ছেন। নিশ্চয়ই খুশি হবেন। কিন্তু কেউ যদি আপনার এই ছবি দিয়ে আপনার অবস্থান, সেই অবস্থানে আর কি কি আছে, আপনি কি কি করছেন সবই জেনে গেল তাহলে কেমন হবে? নিশ্চয়ই আতঙ্কিত হচ্ছেন? হওয়ারই কথা।

সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই শীর্ষ সম্মেলনে গোপনীয়তা, চাকরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে একটি নতুন এআই টুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, যা শুধু ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয়, বরং আজকের বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই টুলটির নাম জিওস্পাই এআই। এর বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কোনো ছবির মেটাডাটা বা এক্সআইএফ তথ্য ছাড়াই কেবল ছবির মাধ্যমে অবস্থান অনুমান করতে পারে।

জিওস্পাই এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা পুলনম সোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, ‘একটি সাধারণ সেলফি এখন যে কারো বাড়ি বা অবস্থান প্রকাশ করতে পারে, আর অধিকাংশ মানুষ এমন প্রযুক্তির অস্তিত্বের বিষয়টি জানে না।’

জিওস্পাই এআই মূলত চিত্র বা ছবি বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি। এটি ছবি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত যেমন বাড়ির ধরন, রাস্তার ধরন, গাছপালা, মাটির রং এবং আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে। এর মাধ্যমে ছবির প্রেক্ষাপট থেকে সম্ভাব্য অবস্থান অনুমান করা সম্ভব। টুলটি ২০২৩ সালে চালু হয়েছিল এবং বিশেষভাবে সরকারী সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

জিওস্পাই এআইয়ের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য ফিচার জেনে নিন-১. অবস্থান অনুমান: জিওস্পাই এআই দাবি করে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ১-৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে, আর সমর্থিত শহরে মিটার-স্তরের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

২. রাস্তা ও সম্পত্তি অনুসন্ধান: এটি লাখ লাখ সম্পত্তির রেকর্ড অ্যাক্সেসের সুযোগ দেয়।

৩. আইন প্রয়োগে ব্যবহার: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিস এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ এরই মধ্যে এটি তদন্তে ব্যবহার করছে।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব তথ্য দিয়ে এই টুল করে কি? আসলে এই তথ্য জিওস্পাই এআই টুল সংগ্রহ করে। সাধারণ এই টুল ব্যবহার হয় বিভিন্ন অপরাধ, অপরাধীদের অবস্থানের তথ্য বের করতে। যদিও প্রযুক্তিটি অপরাধ সমাধানে সহায়ক, তবুও জনসাধারণের গোপনীয়তার জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি সাধারণ ছবি এখন শুধু ছবি নয়; এটি যে ব্যক্তির ছবি তার সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রকাশ করতে পারে। ফলে, সেলফি তুলে নিজেকে বিপদে ফেলার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি আপনি যতটা ব্যবহার করছেন, একই সময় প্রযুক্তিও আপনাকে ব্যবহার করছে।

আমাদের সব তথ্য চলে যাচ্ছে অদৃশ্য এই ডাটা সেন্টারে। আপনি কি করছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কী সার্চ করছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন সবকিছু জমা হচ্ছে সেখানে। একবার সেগুলো হ্যাকারের হাতে গেলে রয়েছে আর্থিক এবং জীবনের ঝুঁকি। তাই এখন সময় এসেছে ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়ার যে কোনো ছবি শেয়ার করার আগে ভাবা উচিত, এটি কি শুধু মুহূর্তের স্মৃতি নাকি ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঝুঁকিও বহন করছে।

আরও পড়ুনশরীরের ভঙ্গিমা দেখে ফ্যানের গতি বাড়াবে কমাবে এআইএখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্ট

কেএসকে