মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (উসমা পুত্রা)-এর নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে প্রধানত ‘কমপ্লিমেন্টারি লেবার মোবিলিটি পাথওয়েজ’ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো:
শরণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলা, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা, জাতীয় অর্থনীতিতে শরণার্থীদের ইতিবাচক অবদান রাখার পথ প্রশস্ত করা।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিল- আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)
এছাড়া মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় টিভিইটি কাউন্সিলসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
বৈঠকে একটি শক্তিশালী ‘সমন্বয় কাঠামো’ গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বক্তারা জানান, এই কার্যক্রমকে সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিতে হলে জাতীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
আইওএম-এর পক্ষ থেকে এই সফল আয়োজনের জন্য মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানানো হয়। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রতিশ্রুতি ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সমন্বিত ও বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি শরণার্থীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এটি কেবল মানবিক দিক থেকেই নয়, বরং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমআরএম