ঈদে স্বজনের সান্নিধ্য পেতে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ। তবে এবার যমুনা সেতুর পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে ঈদযাত্রার চিত্র আগের চেয়ে ভিন্ন। মহাসড়কে সেই চিরচেনা যানজট নেই। নেই ঘরেফেরা মানুষের হুড়োহুড়ি। বাসে গাদাগাদি আর ছাদে যাত্রীও তেমনটা চোখে পড়ছে না এবার। উত্তরের মহাসড়কে এসব ভোগান্তি লাঘবে ১১টি উড়াল সেতু ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়কগুলো বড় ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে গণপরিবহনের পাশাপাশি ঘরমুখো মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করেও গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে যানজটের কারণে থামতে হচ্ছে না কোথাও।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকেই শুরু হয়েছে সাতদিনের সরকারি ছুটি। ফলে সোমবার অফিস শেষ করেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেশিরভাগই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। আর বাকিরা আজ রওনা হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে সেতু পশ্চিম কড্ডার মোড় এলাকায় গেলে দেখা যায়, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে উত্তরের ঘরমুখো মানুষ ঢাকা ছেড়ে আসছেন। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে কোথাও কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল। সড়কে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চলতে দেখা গেছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়ক ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ ফেরা সাগর সেখ জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমবারের মতো ঈদে এবার স্বস্তিতে ফিরতে পারলাম। বিগত সময়ে যানজট ছাড়া বাড়ি ফেরা হতো না। তবে তাকে অতিরিক্ত বাস ভাড়া গুনতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু পারাপার হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৪৩টি পরিবহন। এতে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, উত্তরের মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। সেতুর উপরে ছোট খাটো দুয়েকটা দুর্ঘটনা ঘটলেও আমরা সেটা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফলে কোনো প্রকার পরিবহন জট তৈরি হচ্ছে না।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার উত্তরের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ। যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আগে থেকেই জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু জাগো নিউজকে বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের সাড়ে ছয়শো সদস্য কাজ করছেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সড়কে রয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তরে যানবাহন চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবার তিনটি ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কশপ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে সড়কে কোনো গাড়ি নষ্ট বা বিকল হলে বিনামূল্যে তাৎক্ষণিকভাবে তা মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়া জরুরি তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন তারা।
এম এ মালেক/এফএ/এমএস