দেশজুড়ে

গাজীপুরের দুই মহাসড়কের কোথাও নেই যানজট

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এতে খালি হচ্ছে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা। শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখন নেই আগের মতো কোলাহল। রাস্তার মোড়ে বা দোকানে আড্ডাও নেই। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গাজীপুরের বেশিরভাগ শ্রমিক চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে।

গত তিন দিনে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি থাকলেও শেষ মুহূর্তে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে গাজীপুরের চন্দ্রায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়। দুপুরের পর দুই মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট ছিল না।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের ৮৩৩টি পোশাক কারখানা ছুটি হলে ঈদ উদযাপন করতে বিকেলের মধ্যেই শহর ছেড়ে যান বেশিরভাগ শ্রমিক। সড়কে গণপরিবহন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের বেগ পেতে হয়নি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধ্যে এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হয়েছে চন্দ্রা মোড়। গাজীপুর থেকে এবং সাভার নবীনগর থেকে যেসব গণপরিবহন এবং সাধারণ পরিবহন চন্দ্রমুখ হয়ে উত্তর অঞ্চলের দিকে যায়, তখন ওই দুই দিকের যানবাহনগুলো চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গিয়ে যানজটের কবলে পড়ে। মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য উপস্থিত থাকলেও বিপুল সংখ্যক যাত্রী এবং গণপরিবহনের কারণে শৃঙ্খলা রাখতে হিমশিম খান। সে হিসেবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ছিল অনেকটাই যানজটমুক্ত।

তবে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস এবং টঙ্গী এলাকায় কিছু কিছু গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। টঙ্গীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বাস কাউন্টারকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার কোনাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন বাস কাউন্টার পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি হাতেনাতে ধরেন। পরে ওই কাউন্টার থেকে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়ার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করান।

নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল আলম বলেন, মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। সুষ্ঠুভাবে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পেরেছেন, এটাই সার্থকতা।

আমিনুল ইসলাম/এসআর/এএসএম