তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর ডিমলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে পূর্বখড়িবাড়ি তিস্তাপাড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আফসার আলি, টেপাখরিবাড়ী এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, লোকমান হাকিম, পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম ও ঠাকুরদাসসহ ২০ জন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ডিমলা হাসপাতালে ভতি করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাতজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা ব্যারেজের এক কিলোমিটার উজানে ২০-২৫টি মেশিনের সাহায্যে পাথর ও বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। দুপুরের দিকে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাথর উত্তোলনকারী ব্যবসায়ী, মেশিন মালিক ও শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে চেয়ারম্যান, তার সঙ্গে থাকা পুলিশ ও তাদের লোকজনের ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ রায় বলেন, ‘তিস্তা নদীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ গেলে পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা।’
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জান বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। হামলাকারীদের আটক করতে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আমিরুল হক/এসআর/এএসএম