পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিনোদনের খোঁজে রংপুর চিড়িয়াখানাসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। বিগত ঈদের মতোই মানুষের ঢল নেমেছে। আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন এবং মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকলেও তা দমাতে পারেনি দর্শনার্থীদের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিড়িয়াখানাসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে রংপুর চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন। পরিবার-পরিজন, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা থাকায় দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি স্বস্তি দেখা গেছে।
নগরীর মর্ডান মোড় থেকে আসা সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাচ্চাদের নিয়ে আসতে হয়েছে। ঈদের এই সময়টা আনন্দময় করতে এটুকুতো করতেই হবে। বাচ্চারা বাঘ আর জলহস্তী দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছে।’
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ বাঘ দম্পতি রোমিও-জুলিয়েটের কোলজুড়ে আসা দুই সন্তান রাজা ও রানি। ছয়মাস বয়সী এই দুই শাবককে দেখার বিশেষ আগ্রহ ছিল দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। খাঁচার ভেতরে বানরের বাঁদরামি আর হরিণের ছোটাছুটি দেখে খুদে দর্শনার্থীরা মেতে ওঠে আনন্দে।
পাগলাপীর থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা রিফাত আহমেদ বলেন, ‘ঈদে সবাই মিলে ঘুরতে আসার মজাই আলাদা। এবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও পরিবেশ বেশ উপভোগ্য।’
ভিড় সামাল দিতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। দ্রুত টিকিট সংগ্রহের জন্য কাউন্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
নগরীর প্রাণকেন্দ্রে বিনোদন উদ্যান ও রংপুর চিড়িয়াখানা, যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানাটি ২২ একর এলাকাজুড়ে রয়েছে। এখানে রয়েছে অর্ধশতাধিক রাইডের সমাহার নিয়ে শিশু পার্ক। আরও রয়েছে ভূতের গুহা। রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ। সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তি, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর, কচ্ছপ প্রভৃতিও রয়েছে এখানে। পাখির মধ্যে রয়েছে ময়না, টিয়া, ময়ূর, কাকাতুয়া, কবুতর, বক ইত্যাদি।
চিড়িয়াখানা ছাড়াও কালেক্টরেট সুরভী উদ্যান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় মোড়, কারমাইকেল কলেজ রোড লালবাগ মোড়, শাপলা চত্বর মোড়, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, জিলা স্কুল মাঠ, বটতলা, ক্যান্ট পাবলিক কলেজ সংলগ্ন ফ্লাইওভার, আরএএমসি শপিং সেন্টার চত্বরসহ নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলোতে গিজগিজ করছে মানুষ।
সংস্কৃতি পাড়া খ্যাত টাউনহল চত্বরে সংস্কৃতিকর্মীদের জমিয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এসময় ছোট ছোট পরিসরে নিজেদের মধ্যে গান, গল্পে মেতে ওঠেন সবাই। সুরভী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, বেশ আনন্দ করছে শিশুরা। যে যার মতো রাইডে উঠছে।
চিড়িয়াখানার ইজারাদার হজরত আলী জানান, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পানি পান ও নামাজের ব্যবস্থা এবং বিশ্রামের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত আসন।
চিকলি ওয়াটার পার্ক, তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, শিরিন পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্ক, টাউনহল চত্বর, নগরীর বাইরে গঞ্জিপুরে ভিন্নজগৎ, পীরগঞ্জে আনন্দ নগর, কাউনিয়া তিস্তা পার্ক, মহিপুরঘাট ও তিস্তা সেতুসহ নগরী ও আশপাশের জনপ্রিয় স্পটগুলোতেও ঘুরতে বেরিয়েছেন দর্শনার্থীরা।
জিতু কবীর/এসআর/এমএস