জাতীয়

উন্নত খাবার-গান-বাজনায় ঈদ কাটলো কারাবন্দিদের

ঈদ উদযাপনে মেতেছে সারাদেশ। ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষ সাধ্যমতো নতুন পোশাক-খাবারের আয়োজন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শামিল হয়েছেন ঈদ আনন্দে। ঈদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হননি কারাবন্দিরাও। ঈদের দিন তাদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন।

ঈদের নামাজ দিয়ে দিন শুরু। এরপর উন্নত খাবার আর কারা কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ঈদের দিনটি কেটেছে বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দিদের।

অন্যদের মতো উৎসবমুখর পরিবেশেই কারাবন্দিরা ঈদের দিনটি কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ফারুক আহমেদ।

তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সব বন্দি ও স্টাফরা অংশগ্রহণ করেছেন। এরপর পূর্বনির্ধারিত বিশেষ খাবারের অংশ হিসেবে সব বন্দির জন্য মুড়ি, পায়েস ও সেমাই পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার পর বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। বন্দিরা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করছেন।

এরপর দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, গরুর মাংস (অন্য ধর্মাবম্বিদের জন্য খাসির মাংস), মুরগির রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি এবং পান-সুপারি। এছাড়াও রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।

এদিকে কারাগার সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন স্বজনদের রান্না করে আনা খাবার খাওয়ার সুযোগও ছিল বন্দিদের। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজনসহ স্বজনদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট ফোনে কথা বলার সুযোগও পেয়েছেন বন্দিরা। একই সঙ্গে ঈদের দ্বিতীয় দিন বন্দিদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া ঈদের তিনদিনের মধ্যে স্বজনরা একবার বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বলেও জানা গেছে।

কারা সূত্রে আরও জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য নতুন পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও অনেক বন্দি পোশাক পেয়েছেন। দুস্থ বন্দিদের জন্য কারা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭৩টিতে বন্দি রয়েছেন। হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে দেশের কারাগারসমূহে বন্দি রয়েছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন।

কেআর/ইএ