জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, ১৭ বছরের স্বপ্ন পূরণ

সকাল ১০টা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা প্রাঙ্গণ মানুষের ঢলে ভেসে উঠেছে। বড়দের হাত ধরে শিশুদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে।

জনতার ঢল এত বিস্তৃত যে তা পৌঁছেছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সতর্ক, তবু উচ্ছ্বাস থামানো যাচ্ছে না।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং তার নেতা–কর্মীরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই ঘণ্টা ধরে প্রবেশের সুযোগ পাননি। তাদের চোখে আগ্রহ, মুখে প্রত্যাশার হাসি—ঈদের মুহূর্তের বিশেষত্ব যেন প্রতিফলিত হচ্ছে।

ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরিন উর্মি বলেন, ‘গত ১৭ বছরের স্বপ্ন ছিল, আমরা এমন একটি দিন দেখবো। আমাদের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী হবেন। আজ আমরা যমুনায় এসেছি তার সঙ্গে দেখা করতে।’

অন্যদিকে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘আসলে এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমাদের জীবনে অনেকগুলো ঈদ কারাগারে কাটিয়েছি, অনেকগুলো ঈদ থানার গারদে কাটিয়েছি। আজ এই মুক্ত বাতাসে বাংলাদেশের সবাইকে নিয়ে ঈদ উদযাপন হচ্ছে—সেটি আমাদের জন্য অতি আনন্দের। আমাদের সহযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই পরিবেশ পেয়েছি, তাদেরকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশের জনগণ তাদের কাছের লোক মনে করে।’

এদিকে যমুনা প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখে পড়ে উৎসবমুখর আবহ। অনেকের জন্য এটি প্রথমবারের মতো যমুনা প্রাঙ্গণে আসা। সবার মুখে হাসি—জনতার ভিড় যেন এক জীবন্ত উল্লাসের ছবি।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত সবাইকে অভিবাদন জানান এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

নেতাকর্মীরা বলছেন, আজকের মুহূর্ত শুধুই রাজনৈতিক মিলন নয়—এ যেন দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা, মুক্ত বাতাসে উদযাপিত আনন্দ, আর সহযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন।

কেএইচ/এসএইচএস