আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসছে পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। এনবিসি নিউজকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগে সহায়তা করছে ইসলামাবাদ। এসব সূত্রের মধ্যে দুজন জানিয়েছেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শিগগিরই সরাসরি বৈঠকও হতে পারে।

এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পাকিস্তান এবং যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য দেশটি ‘ভালো অবস্থানে’ রয়েছে। উপসাগরীয় এক কর্মকর্তা জানান, গত দুই দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে পাকিস্তান।

সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন , যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং এই আলোচনা পুরো সপ্তাহজুড়ে চলবে। এর আগে তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা পাঁচ দিনের একটি সময় দিচ্ছি। দেখব কী হয়, যদি ভালো অগ্রগতি হয়, তাহলে আমরা এই সংঘাতের সমাধানে পৌঁছাতে পারব। না হলে হামলা অব্যাহত থাকবে।

তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিশেষ করে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাগের গালিবাফ এ ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সংকটে পড়েছে, সেখান থেকে বের হতে এবং তেল ও আর্থিক বাজার কিছুটা স্থিতিশীল করতে এসব মন্তব্য করছেন ট্রাম্প।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে জানান, সম্প্রতি ‘বন্ধুসুলভ কিছু দেশ’ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ও তার যথাযথ জবাব দেওয়া হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক ও মিশর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

ইরানের দক্ষিণ উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে পাকিস্তান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রায় ২৬ কোটি মানুষের দেশটি তার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রায় পুরো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করে।

মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য পরোক্ষ আলোচনাকে ঘিরে ‘আলোচনার বিষয়ে আলোচনা’ চলছে ও ইসলামাবাদে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কূটনৈতিক সূত্রটি বলে, কূটনৈতিক তৎপরতা ‘পূর্ণোদ্যমে’ চলছে, কিন্তু একাধিক প্রস্তাব থাকলেও এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

হোয়াইট হাউজও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এগুলো সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা। গণমাধ্যমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আলোচনা করে না। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বৈঠক নিয়ে কোনো জল্পনাকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরা উচিত নয়।

সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফেরার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা ইরানি প্রেসিডেন্টকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র: এনবিসি

এসএএইচ