আন্তর্জাতিক

‘অরক্ষিত’ ইসরায়েলের নেগেভ অঞ্চল, ইরানি হামলা ঠেকাতে নেই কোনো ব্যবস্থা

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে হিমশিম অবস্থা দখলদার ইসরায়েলের। এ যুদ্ধে ‘অরক্ষিত’ হয়ে পড়েছে ইসরায়েলের দক্ষিণ নেগেভ অঞ্চল। এই অঞ্চলটিতে ইরানি হামলা প্রতিরোধে কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এতে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিক্রিয়াকে তারা ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

র‌্যাব্বিস ফর হিউম্যান রাইটসের নির্বাহী পরিচালক আভি দাবোস মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, ডিমোনা শহর এবং আশপাশের আরাদ শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নাগরিক সুরক্ষার ব্যাপক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। ডিমোনা শহরটি ইসরায়েলের নিউক্লিয়ার সুবিধার কাছে অবস্থিত।

দাবোস বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রাষ্ট্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে শত শত বিলিয়ন শেকেল ব্যয় করছে, কিন্তু নাগরিক সুরক্ষায় ব্যয় করছে না। এই পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

সর্বশেষ হামলায় ডিমোনা শহরে প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং আরাদে আহত হয়েছেন ১১৫ জন। এ ঘটনার পর ইসরায়েল সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চলে যথাযথ আশ্রয় বা সেফ রুম না থাকায় তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা এখনও অনুমোদিত আশ্রয় বা সেফ রুমের সুবিধা পাচ্ছে না। প্রায় ৩২ লাখ নাগরিক নিরাপদ স্থানের অভাবে বসবাস করছেন অথচ এ সমস্যা সমাধানের জন্য শত শত মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, প্রায় আধা মিলিয়ন শিক্ষার্থী এমন স্কুলে পড়ছেন যেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে বসবাসরত প্যালেস্টাইনি সম্প্রদায়ের জন্য সুরক্ষার অভাব সবচেয়ে তীব্র।

রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষক মাতানিয়াহু এংগেলম্যান বলেন, জুন ২০২৫-এর ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে সতর্ক করেছিল। তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য জীবনমৃত্যুর বিষয়। রাষ্ট্র সীমান্ত অঞ্চলে নাগরিকদের ছেড়ে দিতে পারবে না। সঠিকভাবে বাজেট ও পরিকল্পিত জাতীয় নীতির অভাবে দক্ষিণ শহরগুলো সবসময় ঝুঁকির মুখে থাকবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি আরাদ সফর করেন এবং হামলাগুলো ইরানের বিশ্বব্যাপী হুমকির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত কেউ নিহত হয়নি, কিন্তু এটি ভাগ্যের কারণে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল নাগরিক হত্যা।

তবে নেতানিয়াহুর এ সফর সমালোচিত হয়েছে, কারণ তিনি সফরের সময় একটি মোবাইল সেফ রুম সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন, যা তিনি চলে যাওয়ার পরে সরিয়ে ফেলা হয়। এক আরাদ বাসিন্দা জানান, এটি কেন রেখে দেওয়া যায়নি?

দাবোস বলেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে রাজনৈতিক স্বার্থ নাগরিক সুরক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেগেভের একজন বাসিন্দা হিসেবে এটি আমাকে লজ্জিত করছে।

কেএম