জাতীয়

ছুটি শেষে এখনো ফাঁকা ঢাকা

ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হলেও রাজধানীজুড়ে এখনো ছুটির আমেজ বিরাজ করছে। সাত দিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুললেও ঢাকার চিরচেনা ব্যস্ততা এখনো পুরোপুরি চোখে পড়েনি। কাকডাকা ভোর থেকে মানুষের হাঁকডাক, যানবাহনের চাপ ও নিত্যদিনের যানজট—এসবের স্বাভাবিক চিত্র এখনো দেখা যাচ্ছে না।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করছে। গণপরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত, প্যাডেলচালিত রিকশা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফাঁকা সড়কে অনেক যানবাহনকে দ্রুতগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সিগন্যালেও ট্রাফিক পুলিশকে স্বস্তির মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

ঈদের আগে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে লাখো মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। তাদের অনেকেই এখনো ঢাকায় ফেরেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৪ ও ২৫ মার্চ কর্মদিবসের পর ২৬ মার্চের সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা অবকাশ থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে গ্রামেই অবস্থান করছেন। ফলে আগামী ৩০ মার্চের আগে রাজধানী পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সড়কের মোড়ে মোড়ে রিকশাচালক ও সিএনজিচালকদের যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে। পথচারী দেখলেই একাধিক চালক গন্তব্য জানতে চাচ্ছেন। যাত্রী কম থাকায় ভাড়াও তুলনামূলক কম দাবি করছেন তারা।

লালবাগের বাসিন্দা ও নিউমার্কেট এলাকার একটি শাড়ির দোকানের ম্যানেজার আলী হোসেন বলেন, ‘রোজার মাসে প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে সময় দিতে পারি না। ঈদের ছুটিতে ঢাকা ফাঁকা থাকায় এখন স্বস্তিতে আত্মীয়স্বজনের বাসায় ঘুরতে পারছি। যানজট না থাকায় চলাচলও সহজ হয়েছে।’

তবে জ্বালানি তেলের সংকট এই স্বস্তিতে কিছুটা ভাটা ফেলেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা রউফ খন্দকার বলেন, ‘তেল নেওয়ার জন্য এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। যে পরিমাণ তেল পাওয়া যায়, তা দিয়ে ইচ্ছামতো ঘোরাঘুরি করা যাচ্ছে না। অন্য বছর ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় বেশি ঘুরতে পারতাম, এবার সেটা পারছি না।’

সব মিলিয়ে অফিস-আদালত খুললেও রাজধানী এখনো পুরোপুরি কর্মচাঞ্চল্যে ফেরেনি। ছুটির রেশ কাটতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমইউ/বিএ