রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আইসক্রিমে কামড় দিতেই বেরিয়ে এলো কেঁচো। এ ঘটনায় আইসক্রিম কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিক ও বিক্রেতাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় উৎপাদিত আইসক্রিম জব্দের পর ধ্বংস করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের আলেমার বাজার এলাকায় ‘পিওর’ নামে একটি আইসক্রিম কারখানা দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ওই কারখানায় তৈরি আইসক্রিম হকারদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো। এক হকারের কাছ থেকে আইসক্রিম কিনে খাওয়ার সময় এক শিশু আইসক্রিমে কামড় দিতেই বড় আকারের কেঁচো দেখতে পায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন ওই হকারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কারখানার অবস্থান জানান।
খবর পেয়ে লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের প্রমাণ পায়। উৎপাদিত পণ্যে কোনো মোড়ক, উৎপাদন বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল না। ব্যবহৃত রং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিককে ২০ হাজার টাকা এবং বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, শিশুরা আইসক্রিম খাওয়ার সময় ভেতর থেকে কেঁচো বের হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, কারখানাটির কোনো লাইসেন্স ছিল না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন ও লাইসেন্সবিহীন কারখানা পরিচালনার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। শিশুদের খাবার দেওয়ার আগে পণ্যের মান যাচাই করার জন্য অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জিতু কবীর/কেএইচকে/এমএস