১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, নোয়াখালী, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় মুক্তিসংগ্রাম তীব্র আকার ধারণ করে। শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বের গণতান্ত্রিক সরকার ও জনগণের প্রতি সাহায্যের আবেদন জানায়।
তবে পাকিস্তানি বাহিনী একই দিনে কালুরঘাটে বেতার কেন্দ্রটিতে বিমান হামলা চালিয়ে ভবনের সম্প্রচার অ্যান্টেনাসহ ব্যাপক ক্ষতি করে। কিন্তু এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম শহর ঘিরে হানাদাররা বোমাবর্ষণ চালায়।
রংপুরে পাকিস্তানি সেনারা শহর ও গ্রামে নির্বিচারে গুলি চালায় ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। রাজশাহীর গোপালপুর রেল ক্রসিংয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লড়াই হয়। এতে ছয়টি ট্রাক ও একটি জিপসহ পুরো সেনাদল ধ্বংস হয়। স্থানীয় চিনিকলের কর্মীরা এই প্রতিরোধে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।
নোয়াখালীতে মুক্তিযোদ্ধারা ৪০ পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দী করে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করেন, যা পরে শুভপুর যুদ্ধে ব্যবহার হয়। মেজর আবু ওসমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই চালিয়ে ২৫৬ সেনাকে নিহত করেন। মতিন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস দখল করেন।
চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ভবন/ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ রাতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। পরে গভীর রাতে তারা বিএসএফের মাধ্যমে কলকাতায় পৌঁছান।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তার স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেন, পূর্ব বাংলার খবরের অভাব এবং পাকিস্তানি মিডিয়ার পক্ষপাত উল্লেখযোগ্য।
আনন্দবাজার পত্রিকা ‘সীমান্তের চারদিক থেকে’ শিরোনামে অবরুদ্ধ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার সশস্ত্র সংগ্রামের বর্ণনা প্রকাশ করে। কুষ্টিয়ার স্থানীয় নেতারা ভারতের সাহায্য চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ফ্রান্সে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি নৌসেনা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন।
সব মিলিয়ে ৩০ মার্চ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও জনগণের সংগ্রামের দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’
এমএএস/একিউএফ