দেশজুড়ে

রাজশাহীতে হাম ছড়াচ্ছে ‘হাসপাতাল থেকে’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ছয় বছর বয়সী শিশু শহীদ। নিউমোনিয়া নিয়ে ঈদের আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন তার শরীরে হামের কোনো লক্ষণ ছিল না। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে সে হামে আক্রান্ত হয়।

শিশুটির মা সাজিয়া আক্তার বলেন, আমার বাচ্চার হাম ছিল না। হামের রোগীর পাশেই ছিল, সেখান থেকেই আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা আলাদা রাখতে বললেও অনেকে নিয়ম মানেনি। এতে আমার বাচ্চার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, কয়েক দিন আইসিইউতেও রাখতে হয়েছে। এখন কিছুটা সুস্থ আছে।

শহীদের মতো আরও অনেক শিশু হাসপাতালে অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হামের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসনসংখ্যার তুলনায় রোগী থাকে প্রায় তিন গুণ। অনেক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে, আবার ওয়ার্ডের ভেতরের মতো বারান্দাও রোগীতে পূর্ণ। সবচেয়ে বেশি ভিড় শিশু বিভাগে। সেখানে একেকটি বেডে ৩-৪ জন, কখনো তারও বেশি রোগীকে রাখা হচ্ছে। এমন ঘিঞ্জি পরিবেশে এক রোগীর থেকে অন্য রোগীর মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এভাবেই অনেক শিশুর মধ্যে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

ঠান্ডা ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশু সিফাতের বাবা সাদিকুল ইসলাম বলেন, নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু তিনদিনের মধ্যে অন্য বাচ্চাদের সংস্পর্শে এসে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এখন তার অবস্থা খারাপ, খেতেও পারছে না।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে আসা শিশু মুবাশিরের মা নাজনীন বেগম জানান, প্রথমে সদর হাসপাতালে নিয়েছিলেন, পরে এখানে পাঠানো হয়। কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো সমস্যা আছে। অনেক রোগী একসঙ্গে থাকায় সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় রয়েছে।

হামের বিস্তার বাড়তে থাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন বলেন, হাম আক্রান্তদের জন্য আলাদা কর্নার ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইসোলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোগী বাড়লে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। এই রোগের বিস্তার রোধে তারা কাজ করছেন এবং দ্রুত রোগী শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপ, অপর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো না মানার কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাখাওয়াত হোসেন/এমএন/জেআইএম