খেলাধুলা

বসনিয়া-হার্জেগোবিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারবে ইতালি?

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর নকআউটে যেতে পারেনি, সবচেয়ে বড় কথা সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইতালি। এবারও সুতোর আগায় ঝুলছে আজ্জুরিদের বিশ্বকাপ ভাগ্য। আর মাত্র ৯০ মিনিটের খেলা বাকি। এরপরই নির্ধারণ হয়ে যাবে ইতালিয়ানরা বিশ্বকাপ খেলতে পারবে কি না। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হবে মঙ্গলবার রাত ১২টা ৩০ মিনিটে।

জেনিচার স্টাডিওন বিলিনো পোলজেতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্লে-অফ ফাইনাল ইতালির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টানা দুই বিশ্বকাপ (২০১৮ ও ২০২২) মিস করার পর এবার আর ব্যর্থতার সুযোগ নেই আজ্জুরিদের সামনে।

গত বৃহস্পতিবার বার্গামোয় সেমিফাইনালে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্লে-অফের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইতালি। কোচ জেনারো গাত্তুসোর অধীনে দলটি এখন আত্মবিশ্বাসী হলেও তাদের সামনে রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ইতালি সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলেছিল ২০১৪ সালে, আর নকআউট পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ ছিল ২০০৬ সালের ফাইনাল, যেখানে তারা ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। এরপর ইউরো ২০২০ জিতলেও বিশ্বকাপে ব্যর্থতা তাদের জন্য বড় হতাশার কারণ হয়ে আছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ইতালির ডিফেন্ডার ফেডেরিকো ডিমার্কো এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বসনিয়া সেমিফাইনালে ওয়েলসকে টাইব্রেকারে হারানোর পর ইতালির কিছু খেলোয়াড়ের উল্লাসের ভিডিও ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে ডিমার্কো বলেন, এটি ছিল স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং এতে কোনো অসম্মানের বিষয় ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি সব দেশ ও দলকে সম্মান করি। আমরা শুধু পেনাল্টি শুটআউট দেখছিলাম। এডিন জেকোর সঙ্গে আমি খেলেছি, তাকে মেসেজও করেছি। আমি খুশি যে সে ফাইনালে এসেছে। আমরা ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপে খেলিনি, তাই অহংকারের প্রশ্নই আসে না।’

ডিমার্কোর এই মন্তব্যের জবাবে বসনিয়ার অধিনায়ক ডেজকো বলেন, ইতালিকে ভালো করেই চেনেন তিনি, কারণ রোমা, ইন্টার ও ফিওরেন্টিনায় খেলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যা ঘটেছে দেখেছি। এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ছোট বিষয়ও বড় হয়ে যায়।’

ম্যাচটির সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ সময় রাতেই খেলা শুরু হবে। বুকমেকারদের হিসেবে ইতালিই ফেভারিট- তাদের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি ধরা হচ্ছে, যেখানে বসনিয়ার জন্য জয় তুলনামূলক কঠিন বলে বিবেচিত।

সম্ভাব্য একাদশ অনুযায়ী বসনিয়া দলে থাকতে পারেন নিকোলা ভাসিল, আমার ডেডিচ, নিকোলা কাটিচ, তারিক মুহারেমোভিচ, সিয়াদ কোলাসিনাচ, ইসমির বাজরাকতারেভিচ, ইভান সুনজিচ, বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ, আমার মেমিচ, হারিস তাবাকোভিচ ও ডেজকো।

অন্যদিকে ইতালির একাদশে থাকতে পারেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা, সঙ্গে জিয়ানলুকা মানচিনি, আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, রিকার্দো কালাফিওরি, মাত্তেও পলিতানো, নিকোলো বারেল্লা, মানুয়েল লোকাতেল্লি, সান্দ্রো টোনালি, ডিমার্কো, মইসে কিন ও মাতেও রেতেগুই।

পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অনুযায়ী ইতালি এগিয়ে থাকলেও বসনিয়া ঘরের মাঠে বড় চমক দেখাতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ডেজকোর উপস্থিতি এবং দর্শকদের সমর্থন তাদের বাড়তি শক্তি জোগাবে।

সবকিছু মিলিয়ে এটি ইতালির জন্য ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করলে তা হবে তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যর্থতা। তাই পূর্বাভাস অনুযায়ী ইতালির জয়ের সম্ভাবনা বেশি, ২-১ ব্যবধানে জয় পেতে পারে আজ্জুরিরা, তবে বসনিয়াও লড়াই ছাড়বে না।

আইএইচএস/