বিনোদন

হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’র ২৬ বছর, স্মৃতিতে আবেগঘন শাওন

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ মুক্তির ২৬ বছর পূর্তি আজ (৩১ মার্চ)। এই দিনটি ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন সিনেমার অন্যতম চরিত্র ‘কুসুম’-এ অভিনয় করা অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি সিনেমাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

শাওন জানান, কাকতালীয়ভাবে মধ্যরাতে পাওয়া একটি ভিডিও তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ২০০০ সালের ৩১ মার্চে-যেদিন মুক্তি পেয়েছিল তার অভিনীত প্রিয় এই সিনেমাটি। প্রথম দিনের প্রথম শো দেখা না হলেও, সেদিন সন্ধ্যায় মধুমিতা সিনেমা হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছবিটি দেখেছিলেন তিনি।

সে সময়ের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন শাওন। বলেন, তখন ছিল না সিনেপ্লেক্স, ছিল না ফেসবুক বা দর্শকদের তাৎক্ষণিক রিভিউ। সিনেমা চলাকালীন বা শেষে হলভর্তি দর্শকদের প্রতিক্রিয়াই ছিল একমাত্র মূল্যায়ন।

শাওন লিখেছেন, তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর-ছবির বড়পর্দায় নিজেকে দেখে বিস্মিত হওয়ার আগেই দর্শকদের আবেগময় প্রতিক্রিয়া তাকে ছুঁয়ে গিয়েছিল। কেউ তাকে ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছেন, কেউ আবার মায়ের মতো স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন-এসব অভিজ্ঞতা তাকে আপ্লুত করেছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ শুধু একটি সিনেমা নয়, তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সিনেমাই তাকে জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জুগিয়েছে। সিনেমার চরিত্র ‘কুসুম’র সঙ্গে নিজের এক ধরনের আবেগী বন্ধনের কথাও তুলে ধরেন তিনি, যা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন।

নিজের স্মৃতিময় সেই সময়কে আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি ভিডিও শেয়ার করায় এডিটোপিয়াকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন শাওন।

নিজের লেখা একই নামের উপন্যাস থেকে ১৯৯৯ সালে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ। অসাধারণ এক কাহিনি নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে নৌকা বাইচ, গায়কদের গানের আসর, গায়ে হলুদের গান ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন নির্মাতা।

চলচ্চিত্রটিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু চরিত্রে আরও অভিনয় করেন জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, আনোয়ারা, মুক্তি, গোলাম মোস্তফা, সালেহ আহমেদ ও ডা. এজাজ প্রমুখ।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো ছবির গান। যেগুলোর বেশির ভাগও এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ছবির সংগীত পরিচালনা করেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

হুমায়ূন আহমেদ এই ছবিতে ময়মনসিংহের লোককবি ও গায়ক উকিল মুন্সীর কয়েকটি গান ব্যবহার করেন। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন বারী সিদ্দিকী। এ ছবিতেই গীতিকার হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

এমএমএফ