ধর্ম

জুমার খুতবার সময় নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন: জুমার খুতবা চলাকালীন জুমার সু্ন্নত বা অন্যান্য নফল নামাজ আদায় করা যাবে? জুমার নামাজ কাদের ওপর ফরজ?

উত্তর: জুমার খুতবার সময় জুমার সুন্নত বা অন্য কোনো নফল নামাজ পড়া যাবে না। খুতবার সময় অন্য সব আমল বাদ দিয়ে খুতবা শুনতে হবে।

জুমার দিন মুমিনের করণীয় সম্পর্কে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মুসলমান ব্যক্তি যদি জুমার দিন গোসল করে মসজিদে যায়, কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে, ইমাম বের হয়নি দেখলে যে পরিমাণ ইচ্ছা নামাজ পড়ে, ইমাম বের হয়ে থাকলে বসে যায়, চুপ থেকে খুতবা শোনে ও ইমামের সাথে নামাজ আদায় করে, তাহলে ওই জুমায়ই এ ব্যক্তির জীবনের সব গুনাহ যদি মাফ না-ও হয়, এটা তো অবশ্যই হবে যে, পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তা তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। (মুসনাদে আহমদ)

অর্থাৎ সুন্নত ও নফল নামাজ আদায় করতে চাইলে খুতবার আগেই আদায় করতে হবে। ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হওয়ার পর আর নামাজ শুরু করা যাবে না, বরং খুতবা শোনার জন্য বসে যেতে হবে।

জুমার খুতবা শোনার গুরুত্ব

জুমার খুতবা জুমার নামাজের অংশ। জুমার দুই রাকাত নামাজের পাশাপাশি জুমা পূর্ববর্তী ইমামের দুটি খুতবা শোনাও ওয়াজিব। যেসব কাজ নামাজের মধ্যে হারাম, তা খুতবার সময়ও হারাম। খুতবার সময় কথা বলা, অনর্থক কাজে লিপ্ত থাকা নাজায়েজ। রাসুল (সা.) খুতবার সময় চুপ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে কেউ কথা বললে তাকে ‘চুপ কর’ বলতেও নিষেধ করেছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ কর, তাহলেও তুমি অনর্থক কথা বললে। (সহিহ বুখারি)

জুমার নামাজ যাদের ওপর ফরজ

জুমার নামাজ ফরজ মুসলমান প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন (যিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন নন) মুকিম (যিনি মুসাফির নন) স্বাধীন (যিনি ক্রিতদাস নন) নগর বা লোকালয়ের অধিবাসী পুরুষদের ওপর; যার এমন কোনো গ্রহণযোগ্য অসুবিধা, অসুস্থতা বা বার্ধক্য নেই যে কারণে তিনি মসজিদে উপস্থিত হতে ও জুমা আদায় করতে অক্ষম।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জুমার নামাজ প্রত্যেক মুসলিমের উপর জামাআতের সাথে আদায় করা আবশ্যক। কিন্তু তা চার প্রকার লোকের উপর আবশ্যক নয়; ক্রীতদাস, নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তি। (সুনান আবু দাউদ)

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ ও পরকালের ওপর যাদের ইমান আছে, তাদের ওপর জুমা আবশ্যক। তবে অসুস্থ, মুসাফির, নারী, শিশু ও ক্রিতদাসদের ওপর জুমা আবশ্যক নয়। (দারাকুতনি, বায়হাকি)

মুসাফির ও নারীদের ওপর জুমার নামাজ আদায় করা আবশ্যক নয়। তবে তারা যদি মসজিদে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে জুমা আদায় করে নেবেন। মুসাফির ব্যক্তি জুমার ইমামতিও করতে পারবেন। কোনো মসজিদের খতিব সাহেব যদি সফর পরিমাণ দূরত্ব থেকে এসে জুমার ইমমতি করেন, তাহলে তার ও মুক্তাদিদের জুমা শুদ্ধ হবে।

মসজিদে উপস্থিত হতে অক্ষম অসুস্থ, অন্ধ বা বৃদ্ধদের ওপর জুমা ফরজ নয়। তবে অন্ধ ব্যক্তি যদি তাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কাউকে পেয়ে যান তাহলে তার ওপর জুমা আদায় করা আবশ্যক হবে।

যে ব্যক্তি এমন বিজন কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন, যেখানে জুমার নামাজ আদায় করার মতো মানুষ নেই এবং তিনি জুমার জন্য লোকালয়ের কোনো মসজিদে উপস্থিতও হতে পারছেন না, তার ওপর জুমা ফরজ নয়।

মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ওপর কোনো ইবাদতই ফরজ বা ওয়াজিব নয়, জুমাও তাদের ওপর ওয়াজিব নয়।

গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর ছাড়া জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি অলসতা করে ধারাবাহিকভাবে তিনটি জুমার জামাতে অনুপস্থিত থাকে, আল্লাহ তা’আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন। (সুনানে নাসাঈ) অর্থাৎ সেই অন্তর হেদায়াত পাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়।

ওএফএফ