ফিচার

৩২ বছর ধরে ডাকটিকিট সংগ্রহ করছেন চিকিৎসক মশিউর

মশিউর রহমান। পেশায় একজন চিকিৎসক। সারাদিন মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিলেও শখ তার ডাকটিকিট সংগ্রহ করা। এরই মধ্যে তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫’শ ডাক সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও প্রায় ৪২টি দেশের টাকা ও কয়েন সংগ্রহও করেছেন তিনি। শখের বসেই তিনি এগুলো সংগ্রহ করছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্বি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ও গৃহিনী মাসুদা খানমের বড় সন্তান ডাক্তার মশিউর রহমান। বর্তমানে তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধিনে ইসলামিক মিশন বরিশালের গৌরনদীতে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ২০০৮ সালে এমবিবিএস পাস করার পর ২০০৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে মাদারীপুরের সুস্থ নগরি নামে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।

১৯৯৪ সালে সপ্তম শ্রেণি থেকেই তিনি ডাকটিকিট সংগ্রহ করেন। ধীরে ধীরে সেই সংগ্রহ ১৫’শ তে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১২’শ টিকিট রয়েছে। বর্তমান হারিয়ে যাওয়া অনেক ডাকটিকিট তার সংগ্রহে আছে। এছাড়াও তার সংগ্রহে প্রায় ৮৪টি দেশের ডাকটিকিট হয়েছে। সব টিকিটগুলোকে সুন্দরভাবে আঠা দিয়ে লাগিয়ে পাঁচটি বই বানিয়েছেন।

বইগুলো তার ব্যক্তিগত চেম্বারের আলমারিতে যত্ন করে রেখেছেন। রোগী দেখার পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই সেই পাঁচটি বই বের করে চোখ বুলিয়ে নেন। এতেই তার শান্তি। এছাড়াও চাকরির সুবাদে বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরেছেন। তখন সেই দেশগুলো থেকেও ডাকটিকিট সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও প্রায় ৪২টি দেশের টাকা ও কয়েন সংগ্রহে রয়েছে। এগুলো নিজে ও তার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন থেকেও সংগ্রহ করেছেন।

এ ব্যাপারে ডা. মশিউর রহমান বলেন, ‘সেই স্কুলজীবন থেকেই ডাকটিকিটগুলো সংগ্রহ করে আসছি। শখের বশেই এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। একটু একটু করে সংগ্রহগুলো বেড়েছে। অনেকের তো অনেক ধরনের শখ থাকে। তবে আমার শখ হলো ডাকটিকিট সংগ্রহ করা। দেশের হারিয়ে বা বিলুপ্ত হওয়া অনেক ডাকটিকিট আমার সংগ্রহে আছে। সারাজীবন যখন সুযোগ আসবে, তখনই ডাকটিকিট সংগ্রহ করে যাব। নতুন কোনো টিকিট আসলেও সঙ্গে সঙ্গে তা সংগ্রহ করি। ধীরে ধীরে এর সংখ্যা আরও বাড়বে।’

মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস বলেন, ‘বর্তমানে এই ডিজিটাল যুগে এখন তেমন একটা ডাকটিকিট সংগ্রহের খবর পাওয়া যায় না। ডা. মশিউর রহমানের এই শখটি খুবই ভালো। এটি একটি শিক্ষানীয় শখ। এর সংগ্রহ থেকে অনেক কিছু জানার থাকে। এর থেকে জ্ঞান বাড়ে। কারণ এগুলো এক সময় দেশের সম্পদ হবে। আগামী প্রজন্ম এগুলো দেখে অনেক কিছু জানতে পারবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই অসাধরণ সংগ্রহগুলো আমাদের মাদারীপুরের জাদুঘরে রাখা হলে, এর ব্যাপকতা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুননারীর সঙ্গে পরিবেশ, পরিবেশের সঙ্গে উন্নয়নগ্রামীণ পথের নীরব সৌন্দর্য ভাঁটফুল

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/কেএসকে