একুশে বইমেলা

চাঁদের পাহাড়: দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প

তানজিলা দীবা

কালজয়ী কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ রোমাঞ্চকর উপন্যাস। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত উপন্যাসে শঙ্কর রায় চৌধুরী নামের এক ভারতীয় তরুণের আফ্রিকা জয়ের দুঃসাহসিক বর্ণনা তুলে ধরেছেন লেখক। অনবদ্য এ ভ্রমণকাহিনিতে দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চকর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

যারা দুঃসাহসিক, রোমাঞ্চকর, অভিযাত্রিক কাহিনি সম্পন্ন উপন্যাস পড়তে পছন্দ করেন; তাদের জন্য ‘চাঁদের পাহাড়’ একটি চমৎকার উপন্যাস। বিভূতিভূষণ কোনো দিনও ভারতবর্ষের বাইরে পা রাখেননি। তিনি বিভিন্ন ভ্রমণবিষয়ক ম্যাগাজিন ও গাইড বই পড়েই আফ্রিকার এমন নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন। এ বর্ণনা একেবারেই যথার্থ। আফ্রিকার রহস্যময়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাঁদের পাহাড়’ কাল্পনিক ধারণার ওপর লেখা। তবুও তিনি নিখুঁত ভাবে উপন্যাসের প্রয়োজনে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা করেছেন। প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্য তিনি এইচ এইচ জনস্টন, রোসিটা, ফরবস প্রভৃতি বিখ্যাত ভ্রমণকারীর লেখা বইয়ের সাহায্য নিয়েছেন।

ভারতীয় গ্রামবাংলার অতি সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে শঙ্কর রায় চৌধুরী উপন্যাসের মূল নায়ক। যার জীবনকে ঘিরেই মূলত সম্পূর্ণ উপন্যাস। ভূগোলপ্রেমী এ যুবক ছিলেন বক্সিং, সাঁতার এবং ফুটবলে সমানতালে পারদর্শী। ১৯০৯ সালে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পরে বাবার অসুস্থতার কারণে নিতে হয় পাটকলে সাধারণ চাকরি।

তবে পাটকলের চাকরি তার পছন্দ ছিল না। মন ছুটে বেড়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। একদিন এলাকার এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় সুযোগ হয় উগান্ডার একটি শহরে চাকরি করার। সেটা ছিল রেলওয়েতে চাকরি। সেই চাকরিও খুব একটা সুখকর নয়। ফলে তার জীবনে নিয়ে আসে ভয়ানক সব ঘটনা।

আরও পড়ুনএখানে কয়েকটি জীবন: যে গল্প হৃদয়ে গাঁথা 

সেখানে তার পরিচয় হয় দুঃসাহসিক সহযোগী ডিয়েগো আলভারেজের সঙ্গে। আলভারেজকে সঙ্গে নিয়ে হীরার খোঁজে তারা ঘুরপাক খেতে থাকেন সমস্ত জঙ্গলজুড়ে। অবশেষে বার বার জিতে যাওয়া আলভারেজকেও বরণ করে নিতে হয় মৃত্যু। তারপর শঙ্করের একার সন্ধান শুরু হয়। শুরু হয় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।

উপন্যাসটিতে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বিশেষ কথা লিখেছেন, ‘মানুষের আয়ু মানুষের জীবনের ভুল মাপকাঠি।’ সত্যিই তাই, আয়ু কখনো জীবনের মাপকাঠি হতে পারে না। শঙ্কর তার দশ বছরের জীবন উপভোগ করেছেন মাত্র দেড় বছরে।

জীবন এক আশ্চর্য প্রদীপ। যতদিন জ্বলছে, বাতাসের ঝাপটায় এদিক-সেদিক আলোর শিখা দৌড়াবে। কখনোবা প্রায় নিভে যাওয়ার উপক্রম হবে‌। তবুও নিভতে দেওয়া যাবে না। সাহস ও মনোবল আয়ুর চেয়েও সাংঘাতিক। নিজেকে এবং নিজের স্বপ্নকে ভালোবাসুন।

বইয়ের নাম: চাঁদের পাহাড় লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ধরন: উপন্যাসপ্রকাশনী: দূরবীণ মূল্য: ১৫০ টাকা।

এসইউ