বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড শুনানিতে নিজেকে ‘বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তা’ ও ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার’ দাবি করেছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. আফজাল নাছের। তবে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি এ সময় আরও বলেন, আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক। কেন আমি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবো?
রোববার (৫ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আটক ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনার নেপথ্য ভূমিকা উদঘাটনে তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। মামলাটি পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছিল।
এদিকে আদালতে নিজের বক্তব্যে আফজাল নাছের দাবি করেন, ২০০৯ সালের ৯ নভেম্বর আমাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশেই এটি করা হয়েছিল। আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক। কেন আমি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবো?
তিনি আরও বলেন, জীবিকার তাগিদে ইউনাইটেড গ্রুপে কাজ করলেও সেখানে তার কোনো প্রভাব বা যোগ্যতা ছিল না।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শওকত উল্লাহ বলেন, অভিযোগের সময় আফজাল নাছের ইউনাইটেড হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন না। তিনি একজন বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তা এবং জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের সমর্থক।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আসামি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায়ও বাধা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার রিমান্ড প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএনপির একদফা দাবির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পল্টন, মতিঝিল ও রমনা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় কয়েকশ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। ঘটনাকালে ককটেল বিস্ফোরণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণে বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং এক বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, নগদ অর্থ, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন লুট করা হয়, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৭ লাখ টাকা।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আফজাল নাছের নেপথ্যে থেকে পুরো ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাকে এজাহারভুক্ত হাজতি আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ। গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপ-পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেনের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং অর্থদাতা ও নির্দেশদাতাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।
সব শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের কাছে তদন্তাধীন।
এমডিএএ/এএমএ