দেশজুড়ে

নওগাঁয় ফুয়েল অ্যাপে তেল বিক্রি শুরু, ভোগান্তি থাকলেও ফিরছে শৃঙ্খলা

নওগাঁয় ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু করেছে ফিলিং স্টেশনগুলো। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে সদর উপজেলার ১১টি ফিলিং স্টেশনে এ পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া এ ব্যবস্থায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে ফিরতে শুরু করেছে শৃঙ্খলা।

জেলা প্রশাসন বলছে, এখন থেকে মোটরযান চালকদের ফুয়েল অ্যাপ ব্যবহার করে তেল নিতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে তেল নিলে একজন গ্রাহক একাধিকবার তেল নিতে পারবেন না। গাড়িতে তেল দেওয়ার সময়, তেলের পরিমাণ, গাড়ির মাইলেজ এবং লাইসেন্স নম্বর অ্যাপে সংরক্ষিত থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলে একবারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এরপর অন্তত ১২৫ কিলোমিটার চালানোর আগে একই মোটরসাইকেলে আবার তেল নেওয়া যাবে না। কেউ যদি নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম না করে অন্য পাম্পে তেল নিতে যান, তাহলে অ্যাপের মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তেল দেওয়ায় সময় বেশি লাগছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক চালক। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। তবে অনেকে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এভাবে তেল সরবরাহ করলে অপব্যবহার ও মজুত কমবে বলে মনে করছেন তারা।

শহরের মুক্তির মোড়ে সাকিব ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার পর চালক মেজবা হাসান বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অ্যাপে তথ্য দেওয়ার পর বাইকে তেল পেলাম। অনেকেই ট্যাংকে তেল থাকা সত্ত্বেও বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতো। অ্যাপ চালু হওয়ায় এ প্রবণতা এবার কমবে। শুরুতে কিছুটা অসুবিধা হলেও আমরা এর সুফল পাবো বলে মনে হচ্ছে।

পোরশা উপজেলার চাচাইবাড়ী গ্রাম থেকে মুক্তির মোড়ে আসা মোটরসাইকেল চালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ফুয়েল অ্যাপে তথ্য এন্ট্রি দিতে সময় লাগায় তপ্ত রোদে অনেকে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এক্ষেত্রে কিউআর কোড এবং স্টিকার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সহজ করা যেতে পারতো। আমরা চাই জেলা প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনায় নিবে।

সাকিব ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একজন গ্রাহক একাধিকবার তেল নিতে পারছেন না। ফলে তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের প্রত্যেকটা পাম্পে চাপ কমে আসবে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতা দূর করতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল অ্যাপের ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে সদর উপজেলার সব ফিলিং স্টেশনে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। ট্যাগ অফিসাররা বিষয়টি তদারকি করছেন। এ কার্যক্রমে সফল হলে পর্যায়ক্রমে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে এ অ্যাপ চালু করা হবে।

আরমান হোসেন রুমন/আরএইচ/জেআইএম